মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ২৫২ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬৪ জনই বাংলাদেশি। শনিবার (২২ আগস্ট) মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম পোর্টাল বারিতা আরটিএমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাতে সেলাঙ্গর রাজ্যের ইউএসজে ২৩ ও ক্লাংয়ের কমপ্লেক্স পাসার বেসার মেরু এলাকায় সমন্বিত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ৭১০ জন বিদেশির কাগজপত্র ও বৈধতা যাচাই করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানের সময় আটক এড়াতে অনেক অবৈধ অভিবাসী পালিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত খনির এলাকায় আশ্রয় নেন। কেউ কেউ আবার খাটের নিচে লুকিয়েও রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেন।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশনের উপপরিচালক (নিয়ন্ত্রণ) মোহাম্মদ খুসাইরি কামারুদিন জানান, আটক ২৫২ জনের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ১৬৪ জন বাংলাদেশি, ৫৭ জন মিয়ানমারের, ২৪ জন ইন্দোনেশিয়ার, তিনজন ভারতের, তিনজন নেপালের এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক।
আটক বাংলাদেশিদের সবাই পুরুষ। এ ছাড়া মিয়ানমারের ৫০ জন পুরুষ ও সাতজন নারী, ইন্দোনেশিয়ার ১৬ জন পুরুষ ও আটজন নারী, ভারতের তিনজন পুরুষ, নেপালের তিনজন পুরুষ এবং পাকিস্তানের একজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে।
রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া অভিযানে সেলাঙ্গর ও পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন বিভাগের সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন), জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা (এএডিকে) এবং মালয়েশিয়ান সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের (এপিএম) সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানের মতো বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মোহাম্মদ খুসাইরি কামারুদিন বলেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি নিয়োগকর্তা ও সাধারণ মানুষকে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সুরক্ষা না দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা ইমিগ্রেশন বিভাগকে জানানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।