যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে চালু করা হয়েছে ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম। বাংলাদেশিদের জন্যও মার্কিন ভিসা বন্ড (ভিসায় জামানত) গত ২১ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে। এ তালিকায় মোট ৩৮টি দেশকে যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ জামানত (বন্ড) হিসেবে জমা দিতে হয়। ভিসার শর্ত যথাযথভাবে পালন করলে পরে সেই অর্থ ফেরত পাওয়া যায়। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসা ইন্টারভিউ শেষে কোনো আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাকে বন্ড পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম pay.gov-এর একটি সরাসরি লিংক দেওয়া হবে। নির্দেশনা পাওয়ার পর আবেদনকারীকে ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত অংকের বন্ড পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা না দিলে ভিসা প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বন্ড পরিশোধ সম্পন্ন হলে আবেদনকারীকে সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হবে। এই ভিসার মাধ্যমে কেবল একবারই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা যাবে।
এ ছাড়া ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে। অন্য কোনো পোর্ট ব্যবহার করলে ভিসার শর্ত লঙ্ঘিত হতে পারে।
ভ্রমণ শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে আসা এবং ভিসার সব শর্ত যথাযথভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজ না করা এবং অনুমোদিত সময়সীমা অতিক্রম না করা। সব শর্ত পূরণ হলে বন্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং আবেদনকারীর জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা বি-১ বা বি-২ ভিসা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে আবেদনকারী ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় এই জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।