হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা বাড়াতে নিজেদের এআই চ্যাটবটের জন্য নতুন ‘ইনকগনিটো’ সুবিধা চালু করছে মেটা। ইনকগনিটো চ্যাটের মাধ্যমে মেটা এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা করা কোনো তথ্য অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবে না। এমনকি মেটাও জানতে পারবে না বলে দাবি করা হয়েছে।
এই সুবিধা চালু থাকলে ব্যবহারকারী ও এআইয়ের কথোপকথন পর্যবেক্ষণ করা হবে না। পাশাপাশি আগের কথোপকথনও ব্যবহারকারীর চ্যাট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।
হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান উইল ক্যাথার্ট জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য, সম্পর্ক ও আর্থিক বিষয়সহ বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে অনেকেই এআইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে চান। তবে তারা চান না এসব তথ্য সহজে কারও কাছে উন্মুক্ত থাকুক।
তবে নতুন এ সুবিধা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এলান উডওয়ার্ড বিবিসিকে বলেন, কোনো সমস্যা তৈরি হলে হোয়াটসঅ্যাপের কাছে চ্যাটের তথ্য না থাকায় জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা একই সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও মেসেঞ্জারেরও মালিক। গত বছর হোয়াটসঅ্যাপে মেটা এআই যুক্ত হওয়ার পর সেটি বন্ধ করার সুযোগ না থাকায় কিছু ব্যবহারকারী সমালোচনা করেছিলেন।
নতুন সুবিধা সম্পর্কে ক্যাথকার্ট বলেন, অনেক ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে অস্বস্তি বোধ করেন, কিন্তু একই সঙ্গে তারা প্রয়োজনীয় উত্তরও চান। হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, ইনকগনিটো সুবিধার প্রযুক্তি প্রচলিত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এনক্রিপশন পদ্ধতির মতো না হলেও নিরাপত্তার দিক থেকে তা সমমানের।
তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সুবিধা এআইয়ের ভুল তথ্য দেওয়া বা অপব্যবহারের বিষয়গুলো আড়াল করতে পারে। অতীতে ওপেনএই ও গুগলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এআই-সম্পর্কিত আইনি জটিলতার মুখেও পড়েছে।
উডওয়ার্ডের মতে, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা গোপন থাকা উচিত। তবে একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা এআইয়ের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তবে ক্যাথকার্ট জানান, প্রাথমিকভাবে ইনকগনিটো সুবিধায় শুধু লেখাভিত্তিক বার্তা ব্যবহার করা যাবে, ছবি নয়। পাশাপাশি ক্ষতিকর বা বেআইনি অনুরোধের ক্ষেত্রে মেটা এআই সতর্ক অবস্থান নেবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বেশিরভাগ এআই প্রতিষ্ঠান চ্যাটবট ব্যবহারের কিছু তথ্য সংরক্ষণ করে। অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্য ভবিষ্যতের এআই মডেল উন্নয়নের কাজেও ব্যবহার করা হয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি