সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। একাদশ সাজাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটিকে। বিশেষ করে আক্রমণভাগের দুই তারকার অবস্থাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) চোটে পুরো মৌসুম থেকে মাঠের বাইরে থাকা রদ্রিগোর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপের চোট। ফরাসি ফরওয়ার্ডও দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলায় অনুপস্থিত থাকতে পারেন।
এমবাপের চোটের অবস্থা
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিগ ম্যাচের সময় এমবাপে বাঁ হাঁটুতে এসিএল ও বাইরের মেনিস্কাস ছিঁড়ে ফেলেছেন। হাঁটুর এই অংশগুলো শরীরের স্থিতিশীলতা, গতি, হঠাৎ দিক পরিবর্তন এবং মুভমেন্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শীর্ষ পর্যায়ের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের জন্য অপরিহার্য।
এসিএল ছিঁড়ে যাওয়া ফুটবলের সবচেয়ে গুরুতর চোটগুলোর মধ্যে একটি। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাধারণত সেরে উঠতে ছয় থেকে নয় মাস বা তারও বেশি সময় লাগে। কেউ কেউ আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফিরলেও অনেকেই পুরোপুরি আগের সেরা পারফরম্যান্সে ফিরে আসতে এক বছর বা তারও বেশি সময় নেন।
পুনর্বাসন ও ঝুঁকি
খেলোয়াড়রা তখনই মাঠে ফিরে আসেন, যখন শক্তি, স্থিতিশীলতা ও আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরে আসে। তাড়াহুড়া করলে পুনরায় চোটের ঝুঁকি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে পারফরম্যান্সেও প্রভাব পড়তে পারে। আধুনিক সার্জারি ও উন্নত পুনর্বাসন পদ্ধতির কারণে এখন অনেক দ্রুতই সেরে উঠছে খেলোয়াড়রা, তবু নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি শরীর আলাদা সাড়া দেয়, তাই পুনর্বাসনে সতর্কতা অপরিহার্য।
বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা ফ্রান্সের জন্য
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসছে। এমবাপের গুরুতর চোট ফ্রান্সের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। প্রত্যাশিত পুনর্বাসন সময় বিবেচনায়, বড় ধরনের চিকিৎসা অগ্রগতি না হলে বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগে এমবাপে ছিটকে পড়ায় কোচ এবং সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যেখানে বিশ্বকাপে তার অনুপস্থিতি দলের পরিকল্পনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।