টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজুড়ে ভারতের বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা ছিলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দলের যখন যেমন দরকার হয়েছে, ঠিক তখনই বল হাতে দায়িত্ব পালন করেছেন এই তারকা পেসার। আর ধারাবাহিক সেই পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দিয়েছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির স্বীকৃতি।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের ফাইনালেও ছিল বুমরাহর দাপট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে মাত্র ১৫ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। তার বিধ্বংসী স্পেলেই মূলত ভেঙে পড়ে কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জেতেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
পুরো টুর্নামেন্টে বুমরাহ খেলেছেন ৮ ইনিংস, নিয়েছেন ১৪ উইকেট। ওভারপ্রতি তার ইকোনমি ছিল মাত্র ৬.২১ রান, আর প্রতিটি উইকেট নিতে খরচ হয়েছে গড়ে ১২.৪২ রান। উইকেট সংখ্যায় বুমরাহর সমান ১৪টি শিকার করেছেন ভারতের আরেক স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। তবে তিনি খেলেছেন এক ম্যাচ বেশি। পাশাপাশি তার ইকোনমি ছিল অনেক বেশি, ওভারপ্রতি প্রায় ৯.২৫ রান। ফলে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রণ- দুই দিক থেকেই এগিয়ে ছিলেন বুমরাহ।
ফাইনালের আগে পর্যন্ত উইকেট শিকারির তালিকার শীর্ষে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেসার শ্যাডলি ফন স্কালভিক। মাত্র চার ইনিংসে ১৩টি উইকেট নিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। তার ইকোনমিও ছিল বেশ নিয়ন্ত্রিত, ওভারপ্রতি ৬.৮০ রান।
এছাড়া জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ৬ ইনিংসে নিয়েছেন ১৩ উইকেট, যেখানে তার ইকোনমি ৭.৮৮। ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদও ৮ ইনিংসে ১৩টি উইকেট নিয়ে তালিকার ওপরের দিকেই ছিলেন, ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৮.১৫ রান।
সব মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত ১০ উইকেট পেয়েছেন মোট ১৯ জন বোলার। তবে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়া এবং ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং; সবকিছু মিলিয়ে এবারের আসরে বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম হয়ে উঠেছেন জাসপ্রিত বুমরাহ।