৮, সংখ্যাটা শেষ পাঁচ বছর ধরে বার্সেলোনার কাঁধে ঘুরছে সিন্দাবাদের ভূত হয়ে। ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেই যে ৮-২ গোলের দুঃস্মৃতি উপহার পেয়েছিল বার্সা, এরপর থেকে ফুটবলে ৮ সম্পর্কিত কিছু হলেই যেন টীকাটিপ্পনীর শিকার হতে হয় দলটাকে। সেই অভিশপ্ত সংখ্যাটাকেই এবার নতুন অর্থ দিল কাতালানরা, যেন পুরোনো যন্ত্রণা ধুয়ে মুছে ফেলার এক জবাব।
সেই ৮ গোলের যন্ত্রণা এবার বার্সেলোনা দিল প্রতিপক্ষকে। নিউক্যাসলের বিপক্ষে তারা ৭-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে, সামগ্রিক ফলাফলে ৮-৩ স্কোরলাইন নিয়ে তারা চলে গেছে শেষ আটে। তবে ম্যাচটা এমন একপেশে হবে, প্রথমার্ধ দেখে মোটেও তা মনে হয়নি। শুরুটা ছিল টানটান উত্তেজনার, দুই দলই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমিয়ে রেখেছিল ম্যাচ। কিন্তু বিরতির পর যেন অন্য এক বার্সেলোনা, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একেবারে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।
ম্যাচের শুরুতেই গোলমুখে প্রথম শট নেয় নিউক্যাসল, কিন্তু এগিয়ে যায় বার্সাই। ৬ মিনিটে রাফিনিয়া গোল করেন। ১৫ মিনিটে নিউক্যাসল সমতায় ফেরে। লুইস হল বাঁ দিক দিয়ে উঠে হার্ভি বার্নেসের সঙ্গে ওয়ান-টু করেন, এরপর লো ক্রস দিলে অ্যান্থনি এলেঙ্গা গোল করেন।
১৮ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার ফ্রি-কিকে জেরার্ড মার্টিন হেড করেন, সেই বল থেকে ফাঁকায় দাঁড়ানো মার্ক বের্নাল গোল করেন। তাতেই তিনি বনে যান বার্সার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল করা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। তবে এই লিডও ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। ২৮ মিনিটে হার্ভি বার্নসের লো ক্রসে এলেঙ্গা নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে ফেরান সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ সময়ে ত্রিপিয়ারের ফাউলে বার্সেলোনা পেনাল্টি পায়। ইয়ামাল সেই পেনাল্টি ঠান্ডা মাথায় গোলে পরিণত করেন। এটি চ্যাম্পিয়নস লিগে তার ১০ম গোল। বিরতির বাঁশি বাজার আগেই ম্যাচটা আবার হেলে পড়ে বার্সার দিকে।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা যেন পুরো অন্য দল হয়ে মাঠে নামে। ৫১ মিনিটে ফেরমিন লোপেজ গোল করে ব্যবধান বাড়ান। জেরার্ড মার্টিনের পাস থেকে রাফিনিয়া বল ঘুরিয়ে দেন, আর ফেরমিন লোপেজ তা গোলে পাঠান। ৫৬ মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নার থেকে রবার্ট লেভানডস্কি হেডে গোল করেন। ৬১ মিনিটে ইয়ামালের দারুণ পাসে লেভানডস্কি আরেকটি গোল করেন।
৭২ মিনিটে রাফিনিয়া নিউক্যাসলের বক্সের ভেতরে বল কেড়ে নিয়ে আরেকটি গোল করেন। এটি তার এই ম্যাচে দ্বিতীয় গোল এবং শেষ দশটি চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউট ম্যাচে নবম গোল। শেষ বাঁশি বাজার আগেই ম্যাচের গল্প একেবারে পাল্টে যায়; যেখানে লড়াইয়ের আভাস ছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে একতরফা আধিপত্য।
এই গোল ইতিহাসের পাতায় তুলে দেয় বার্সাকে। স্পেনের কোনো দলের পক্ষে ইংলিশ দলের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় সাত গোল করার এটাই যে প্রথম ঘটনা! অতীতের ‘৮’ যেখানে ছিল দুঃস্বপ্ন, সেখানেই এবার ‘৮’ হয়ে উঠল প্রতিশোধ আর পুনর্জন্মের প্রতীক।