লিভারপুলের জন্য মৌসুমটা যেন ধীরে-ধীরে এক অদৃশ্য ফাঁদে আটকে যাওয়ার গল্প হয়ে উঠছে। মাঠে নামার আগেই দলে নেই নিয়মিত ভরসার দুই নাম - আলিসন বেকার ও মোহাম্মদ সালাহ। তার ওপর ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা, টপস্কোরার উগো একিটিকে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন। সব মিলিয়ে অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে যেন শুরু থেকেই ছন্দহীন এক লিভারপুল।
এই সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগায় ব্রাইটন। ম্যাচের ১৪ মিনিটেই দিয়েগো গোমেজের ক্রস-ফিল্ড পাস থেকে হেড করে বল জালে জড়ান অভিজ্ঞ ড্যানি ওয়েলবেক। বয়স ৩৫ হলেও তার গোল করার ক্ষুধা যেন একটুও কমেনি। বরং এই গোলের মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে নিজের ১১তম গোল করে ইংলিশ ফুটবলারদের মধ্যে শীর্ষস্থানটা আরও পোক্ত করলেন তিনি।
গোল হজমের পর লিভারপুল চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফিরতে। মাঝমাঠ দখল, আক্রমণ তৈরি; সবই ছিল, কিন্তু কার্যকারিতা ছিল না। ২২ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দারুণ এক সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন, কারণ ব্রাইটন গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন ছিলেন প্রস্তুত। তবে ম্যাচের গতি বদলায় ৩০ মিনিটে। ব্রাইটন অধিনায়ক লুইস ডাঙ্কের এক অদ্ভুত ভুলে বল পেয়ে যান মিলোস কেরকেজ। সুযোগ বুঝে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান তিনি। মুহূর্তেই ম্যাচে ফিরে আসে লিভারপুল।
কিন্তু বিরতির পর গল্পটা আবার ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাইটনের পক্ষে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তারা আক্রমণে ধার বাড়ায়। ৫৬ মিনিটে ইয়ানকুবা মিনতের নিখুঁত ক্রস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে জ্যাক হিনশেলউডের পাস পেয়ে আবারও গোল করেন ড্যানি ওয়েলবেক। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন ২-১ ব্যবধানে। ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অভিষেক হওয়া এই স্ট্রাইকার যেন নতুন করে নিজের সেরা সময়টা খুঁজে পেয়েছেন।
গোল হজমের পর আর দেরি করেননি আর্নে স্লট। একে একে নামান রিও এনগুমোহা, অ্যান্ডি রবার্টসন ও ফেদেরিকো কিয়েসাকে। কিন্তু আক্রমণের গতি বাড়লেও শেষ পর্যন্ত ব্রাইটনের রক্ষণভাগ ভাঙা যায়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশ মুখে মাঠ ছাড়ে অল রেডরা।
এই হার শুধু একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, বরং বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্নে। ৩১ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে এখন পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে লিভারপুল। চতুর্থ স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার থেকে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা, আর চেলসির থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট এগিয়ে। অন্যদিকে ব্রাইটন ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে অষ্টম স্থানে।
লিগের শিরোপার দৌড় থেকে আগেই ছিটকে যাওয়া লিভারপুল এখন তাকিয়ে আছে বাকি দুই প্রতিযোগিতার দিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের আশা টিকিয়ে রাখা আর এফএ কাপে এগিয়ে যাওয়া; এই দুই পথেই নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ আছে। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, কারণ এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অপেক্ষা করছে ম্যানচেস্টার সিটি।