চেলসির জন্য মৌসুমটা যেন এক অন্তহীন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মাঠে নামছে, লড়াই করছে; কিন্তু ফলাফল শূন্য। ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না লন্ডনের ক্লাবটি। শনিবার রাতে সেই হতাশার তালিকায় যোগ হলো আরও একটি পরাজয়।
এভারটনের মাঠ হিল ডিকসন স্টেডিয়ামে গিয়ে ৩-০ গোলের বড় হার মেনে নিতে হয়েছে চেলসিকে। শুরুটা যদিও একেবারে ভেঙে পড়ার মতো ছিল না, কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে যায় এভারটন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা। এই জয়ে নতুন এক ইতিহাসও গড়ে তারা; ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচে হারাল চেলসিকে।
ম্যাচের নায়ক গিনি বিসাউয়ের ফরোয়ার্ড বেতো, যিনি করেছেন জোড়া গোল। আর একবার জালের দেখা পেয়েছেন সেনেগালের উইঙ্গার ইলিমান দিয়ায়ে। অন্যদিকে পরিসংখ্যান যেন এক ভিন্ন গল্প বলছে। বল দখলে ৬৪ শতাংশ এগিয়ে ছিল চেলসি, শটও নিয়েছে ১২টি; তবে লক্ষ্যে মাত্র ৪টি। সবচেয়ে হতাশার বিষয়, তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে তারা। কার্যকারিতার এই ঘটতিই বড় ব্যবধানে হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে হার; চেলসির জন্য এটি স্পষ্ট সংকেত, সমস্যাটা গভীরে। এই চার ম্যাচের তিনটিতেই তারা গোল করতে পারেনি। শুধু পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই গোল করলেও, সেই ম্যাচেই আবার পাঁচ গোল হজম করতে হয়েছে। সবমিলিয়ে চার ম্যাচে ১২ গোল হজম; রক্ষণভাগের দুর্বলতা যেন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
এই হারের পরও ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয় নম্বরেই আছে চেলসি। কারণ একই রাতে লিভারপুল হেরেছে ব্রাইটনের কাছে। ফলে আপাতত অবস্থান বদলায়নি। এই জয়ে এভারটন উঠে এসেছে অষ্টম স্থানে, আর ৩১ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। রাতের অন্য ম্যাচে ফুলহাম ৩-১ গোলে হারিয়েছে বার্নলিকে।