স্প্যানিশ ফুটবলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা এবার নতুন এক মোড় নিতে যাচ্ছে। মাঠের গ্যালারিতে যা এতদিন ‘চিৎকার’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হতো, সেটাই এখন সরাসরি অপরাধ হিসেবে বিচার ব্যবস্থার টেবিলে উঠছে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে আবারও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
২০২৩ সালের অক্টোবরে রিয়াল মাদ্রিদ ও সেভিয়ার ম্যাচে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এখন বড় আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। সেভিয়ার মাঠ র্যামন সানচেজ পিজুয়ান স্টেডিয়ামে খেলার সময় এক সমর্থক বারবার ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে গালি দেন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, তিনি কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ও অপমানজনক শব্দও করেন, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও জঘন্য করে তোলে।
এই ঘটনার গুরুত্ব বাড়িয়েছে আরেকটি বিষয়; সবকিছু ঘটেছে সরাসরি সম্প্রচারের সময়, লাখো দর্শকের সামনে। প্রসিকিউটরদের মতে, এই আচরণ ছিল স্পষ্ট বর্ণবাদী এবং খেলোয়াড়ের গায়ের রঙকে কটাক্ষ করা। এতে ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে, পাশাপাশি তার মধ্যে ‘লজ্জা, অপমান ও হতাশার অনুভূতি’ তৈরি হয়েছে।
এই মামলায় শুধু রাষ্ট্রপক্ষই নয়, সরাসরি যুক্ত হয়েছে লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদও। অন্যদিকে ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয় সেভিয়া। অভিযুক্ত সমর্থককে স্টেডিয়াম থেকেই বহিষ্কার করা হয়।
এখন নজর ২৯ এপ্রিলের দিকে, যখন সেভিল প্রাদেশিক আদালতে এই মামলার শুনানি হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই সমর্থকের এক বছর নয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি দুই বছরের জন্য স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
স্পেনে ফুটবলে বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান ধীরে ধীরে আরও কঠোর হচ্ছে। এই রায় কার্যকর হলে লা লিগা-তে এটি হবে বর্ণবাদ সংক্রান্ত নবম শাস্তির ঘটনা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজেও একাধিকবার এমন অপমানের শিকার হয়েছেন, আর তার প্রতিবাদই এখন এই পরিবর্তনের বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। ফুটবল মাঠে এখন প্রশ্নটা শুধু খেলার নয়, বরং সম্মান, পরিচয় আর ন্যায়েরও।