মাদ্রিদ ডার্বি মানেই উত্তেজনা, টানটান লড়াই আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এই নাটকীয় রাতটা শেষ পর্যন্ত রাঙিয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা। তার জোড়া গোলেই রিয়াল মাদ্রিদ তুলে নিয়েছে দারুণ এক জয়, যা লা লিগার শিরোপা দৌড়ে নতুন করে আগুন জ্বালিয়ে দিল।
নিজেদের মাঠে শুরুটা তেমন ভালো ছিল না রিয়ালের। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এগিয়ে যায়। আদেমোলা লুকম্যান গোল করে অতিথিদের উল্লাসে ভাসান। গ্যালারিতে তখন চাপা অস্বস্তি! ডার্বিতে পিছিয়ে পড়া যে কতটা কঠিন, তা ভালোই জানে স্বাগতিকরা।
তবে বিরতির পর যেন অন্য এক রিয়ালকে দেখা যায়। আক্রমণের তীব্রতা বাড়তেই ম্যাচের ফলাফল বদলে যায়। ৫২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, তিন মিনিট পর ফেদেরিকো ভালভার্দে দুর্দান্ত এক ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন। মুহূর্তেই ম্যাচ ঘুরে যায়।
কিন্তু ডার্বি বলে কথা, এখানে নাটক থাকবেই। ৬৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে নাহুয়াল মলিনা দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে আবার সমতা ফেরান। ম্যাচ তখন নতুন করে উত্তেজনার চূড়ায়। এরপর আবারও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ভিনিসিয়ুস। ৭২ মিনিটে চমৎকার এক গোল করে স্কোরলাইন ৩-২ করেন তিনি। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আমেজ, কিন্তু বাকি ছিল আরও নাটক।
পাঁচ মিনিট পরই বিপদে পড়ে রিয়াল। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের ওপর ফাউল করে ভালভার্দে লাল কার্ড দেখেন। ১০ জনে নেমে আসা রিয়ালকে ঘিরে ধরে অ্যাটলেটিকো। একের পর এক আক্রমণে চাপ তৈরি হয়, তবে শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি তারা। জুলিয়ান আলভারেজের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে রিয়াল সমর্থকদের বুক থেকে নেমে যায় বড় এক চাপ।
শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের এই রোমাঞ্চকর জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ের পর ২৯ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগের দ্বিতীয় স্থানে লস মেরেঙ্গুয়েজরা। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা সমান ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে আছে, যারা নিজেদের মাঠে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে। একমাত্র গোলটি করেন রোনাল্ড আরোয়ো।