দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান, অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় বুধবার (১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে মধ্য আফ্রিকার দলটি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১০০তম মিনিটে ডিফেন্ডার এক্সেল টোয়ানজেবির একমাত্র গোলই হয়ে ওঠে পার্থক্য গড়ে দেওয়া মুহূর্ত। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় কঙ্গোর বিশ্বকাপ যাত্রা; ১৯৭৪ সালের পর, দীর্ঘ ৫২ বছর পর আবারও ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে দেখা যাবে তাদের।
পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল কঙ্গো। তবে জ্যামাইকার রক্ষণভাগ ভাঙতে গিয়ে বারবার হতাশ হতে হয়েছে তাদের। একের পর এক আক্রমণ করেও নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা পায়নি দলটি। ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে দিতে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়েই সাফল্য আসে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ডেডলক ভাঙেন এক্সেল টোয়ানজেবি। তার এই গোলেই স্টেডিয়ামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উল্লাস। একসময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই ডিফেন্ডার ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেললেও পরে নিজের শিকড়ের দেশ ডিআর কঙ্গোকেই বেছে নেন। আর সেই সিদ্ধান্তকেই সার্থক করে তুললেন তিনি।
এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং একটি জাতির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ১৯৭৪ সালে ‘জাইরে’ নাম নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এই প্রথম আবার মূল পর্বে ফিরছে তারা, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ বিরতির একটি।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও সমতায় ফিরতে পারেনি জ্যামাইকা। কঙ্গোর সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সব প্রচেষ্টাই প্রতিহত করে। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের আবেগঘন উদযাপনেই ফুটে ওঠে এই অর্জনের গুরুত্ব।
২০২৬ বিশ্বকাপে কঙ্গোর এই যোগ্যতা অর্জন আফ্রিকান ফুটবলের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই প্রতিচ্ছবি। এটি শুধু একটি দলের সাফল্য নয়, বরং পুরো জাতির গর্বের উপলক্ষ। গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো সমর্থক টোয়ানজেবির সেই ঐতিহাসিক গোল উদযাপন করেন উৎসবের আমেজে। এখন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের অপেক্ষায় ডিআর কঙ্গো।