মার্চ উইন্ডোর দুটি ম্যাচ কাগজে-কলমে প্রীতি ম্যাচ হলেও, ভেতরের গল্পটা অনেক গভীর। সামনে ফুটবল বিশ্বকাপ, আর সেই লক্ষ্যেই খেলোয়াড়দের শেষবারের মতো যাচাই করে দেখেছেন কোচরা। কিন্তু এই পরীক্ষায় ঠিক উতরাতে পারেনি ইংল্যান্ড। উরুগুয়ের সঙ্গে ড্রয়ের পর ঘরের মাঠে জাপানের কাছে হার; যেটা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দলটিকে ঘিরে। আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ফিল ফোডেন।
ম্যান সিটির এই ২৫ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। জাপানের বিপক্ষে হ্যারি কেইনের জায়গায় নেমেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি ফোডেন। ক্লাব ফুটবলেও সম্প্রতি নিয়মিত গেমটাইম না পাওয়া, সবমিলিয়ে জাতীয় দলে তার জায়গা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড়সড় সংশয়।
টুখেল অবশ্য ফোডেনের চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন না, তবে পারফরম্যান্সে হতাশা লুকাননি। তার ভাষায়, ‘সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমি বলতে পারি ক্যাম্পে সে দারুণ ছিল, কিন্তু মাঠে বেশ সংগ্রাম করেছে। এটা ঠিক যে সিটিতে সম্প্রতি সে খুব বেশি খেলার সময় পায়নি, এরপর বেশ চাঙা মনোভাবেই (জাতীয় দলের) ক্যাম্পে এসেছিল এবং অনুশীলনেও ছিল ঠিকঠাক। আমার মনে হয় মাঠের পারফরম্যান্সে সে আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়েছে এবং একই উত্তেজনা ও তেজ নিয়ে খেলার যে আশা ছিল, তার বদলে ম্যাচে প্রভাব রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’
অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে তোলার পথে বড় ভূমিকা ছিল ফোডেনের। সেই সময় ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে জিতেছিলেন একাধিক স্বীকৃতিও। কিন্তু ফুটবলে বাস্তবতা বদলায় দ্রুত, আর সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে টুখেল এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে নারাজ, ‘আমি (অতীত স্মরণ করতে) পারি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সামনে পারবে কি না। সে তার ফর্মে ফিরবে সেই নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।’
দল গঠনে বড় নাম ছেঁটে ফেলার সাহসও দেখাচ্ছেন এই জার্মান কোচ। এরই মধ্যে আর্নোল্ডের মতো তারকাকেও সাম্প্রতিক স্কোয়াডে ডাকেননি তিনি, যা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি।
মার্চ উইন্ডো যে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এটা আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন টুখেল। তবে এই ফলাফলকেই চূড়ান্ত মানতে নারাজ তিনি, ‘আমি সবসময়ই শিখি। প্রতিটি অনুশীলন সেশন, পুরো স্কোয়াড দেখে ফুটবলারদের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া এবং সুনির্দিষ্ট গেমপ্ল্যান নিয়ে তাদের চেষ্টা ও মানিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো থেকে শিখি। কত দ্রুত তারা কৌশল রপ্ত করে মাঠে তার বাস্তবায়ন করে প্রতিটি বিষয়েই শেখার আছে। তবে মার্চ আমাদের সংজ্ঞায়িত করে না। একইসঙ্গে নিজেদের নিয়েও আমাদের কোনো দ্বিধা নেই।’
প্রথমে নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ বললেও এখন স্বপ্ন ভাঙতে দিতে নারাজ ইংল্যান্ড কোচ। সামনে ক্লাব মৌসুমের শেষভাগ সেখানেই চোখ রাখছেন তিনি। তার বিশ্বাস, খেলোয়াড়রা ক্লাবের হয়ে ভালোভাবে মৌসুম শেষ করতে পারলে, বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে পরিকল্পনাগুলো ঠিকঠাক গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।