ইতালীয় ফুটবলে যেন অন্ধকার আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একের পর এক ব্যর্থতার ধাক্কা সামলাতে না পেরে এবার সরে দাঁড়ালেন জাতীয় দলের কোচ জেন্নারো গাত্তুসো। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারার ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়েই ইতালির ডাগআউটকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। গত মঙ্গলবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে ইতালি জাতীয় ফুটবল দল ছিটকে যায় ২০২৬ বিশ্বকাপের দৌড় থেকে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি ছিল আরেকটি বড় ধাক্কা।
এই হারের পর যেন ডমিনো ইফেক্ট! এক এক করে পদত্যাগ করতে থাকেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা এবং দলীয় প্রধান কিংবদন্তি জিয়ানলুইজি বুফন সরে দাঁড়ানোর পর, তাদের পথেই হাঁটলেন গাত্তুসো। মাত্র ৯ মাসের মাথায় তার এই বিদায় ইতালীয় ফুটবলের অস্থিরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
বিদায়ী বার্তায় আবেগ লুকাননি ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। তিনি বলেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছিলাম তা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত। আজ্জুরিদের জার্সি ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, তাই ভবিষ্যতের স্বার্থে এখনই সরে দাঁড়ানো সঠিক বলে মনে করি।’
এখন প্রশ্ন, পরবর্তী কোচ কে? আলোচনায় উঠে আসছে বেশ কিছু বড় নাম। এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি এবং আন্তোনিও কন্তে। উল্লেখযোগ্য যে, কন্তে এর আগেও ২০১৪-১৬ মেয়াদে ইতালির দায়িত্ব সামলেছেন।
আগামী সূচিও ইতালির জন্য কম চ্যালেঞ্জিং নয়। ৭ জুন গ্রিসর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং সেপ্টেম্বরে বেলজিয়ামর বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচ। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগেই নতুন কোচ ও ফেডারেশন প্রধান খুঁজে নিতে হবে তাদের। ২২ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফেডারেশনের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট।
উল্লেখ্য, গত জুনে লুসিয়ানো স্প্যালেত্তির স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন গাত্তুসো। তার অধীনে শুরুটা আশাব্যঞ্জকই ছিল। টানা পাঁচটি গ্রুপ ম্যাচ জিতেছিল ইতালি। কিন্তু গোল ব্যবধানে নরওয়ের পেছনে পড়ায় প্লে-অফে নামতে হয়। সেমিফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে আশা জাগালেও, ফাইনালে বসনিয়ার বিপক্ষে সেই আশা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
১০ জনের দলে পরিণত হয়েও ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইতালি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের নির্মমতায় স্বপ্ন ভেঙে যায়; আর সেই সঙ্গে শেষ হলো গাত্তুসো অধ্যায়ও।