লা লিগার দৌড়ে হঠাৎই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মায়োর্কার বিপক্ষে হারের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার জিরোনার সঙ্গে ড্র! শিরোপা লড়াইয়ে স্পষ্ট চাপ তৈরি করেছে এই ফল। আলভারো আরবেলোয়ার দলের জন্য এটি শুধু একটি পয়েন্ট হারানো নয়, বরং আত্মবিশ্বাসে বড় ফাটলের ইঙ্গিত।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারিতে জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই হাজির হয়েছিল সমর্থকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় থামতে হয় স্বাগতিকদের। এই ফলের ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। আজ রাতে বার্সেলোনা জিতলে ব্যবধান আরও বাড়বে, যা শিরোপা দৌড়কে একপেশে করে দিতে পারে।
মায়োর্কার বিপক্ষে রোটেশন করে সমালোচনায় পড়া আরবেলোয়া এবার ঝুঁকি নেননি। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামদের নিয়ে শক্তিশালী একাদশই নামান তিনি। কিন্তু প্রথমার্ধে জিরোনার সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙার মতো ধারালো আক্রমণ দেখা যায়নি রিয়ালের কাছ থেকে।
বিরতির পর ম্যাচে কিছুটা গতি আসে। ৫১ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে এগিয়ে দেন দলকে। মনে হচ্ছিল, এই গোলই হয়তো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। মাত্র ১১ মিনিট পর ডান দিক থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণে সমতায় ফেরে জিরোনা। টমাস লেমারের গোলে আবারও চাপে পড়ে রিয়াল। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেছিলেন এমবাপে, কিন্তু রেফারি তাতে সাড়া দেননি। যা নিয়ে মাঠ ও গ্যালারিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে হতাশাই সঙ্গী হয় রিয়াল সমর্থকদের। টানা তিন ম্যাচে জয়হীন থেকে লা লিগার লড়াইটা নিজেরাই কঠিন করে ফেলেছে তারা। ৩১ ম্যাচ শেষে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ইতোমধ্যেই এগিয়ে আছে ৭৬ পয়েন্টে। শনিবার এসপানিওলের বিপক্ষে জয় পেলে শিরোপার পথে আরও এগিয়ে যাবে হান্সি ফ্লিকের দল।
এমন অবস্থায় ঘরোয়া ব্যর্থতা ভুলে এখন ইউরোপের মঞ্চেই ভরসা খুঁজতে হবে রিয়ালকে। সামনে চ্যাম্পিয়নস লিগের কঠিন পরীক্ষা, বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে ফিরতি লেগ। প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় জার্মান মাটিতে অন্তত দুই গোলের জয় ছাড়া পথ খোলা নেই আরবেলোয়ার দলের সামনে।