ডমিনিক সবোসলাইয়ের কথাই চিন্তা করুন, অ্যানফিল্ডে দলের জয়ের জন্য ‘মরে যেতেও প্রস্তুত’ ছিলেন লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার। ঘরের মাঠে জয়ের সব হিসাব-নিকাশ যেন সাজানোই ছিল আর্নে স্লটের হাতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নিজেদের শতভাগ নিংড়ে দিয়েও পিএসজির বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নিতে পারেনি অল রেডরা।
দুই লেগ মিলিয়ে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে ৪-০ ব্যবধানে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর ফিরতি লেগেও একই স্কোরলাইন ধরে রেখে জয় তুলে নেয় তারা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন ডেম্বেলে, যিনি পুরো ম্যাচজুড়েই ছিলেন পার্থক্য গড়ে দেওয়া খেলোয়াড়।
সেমিফাইনালে উঠতে হলে লিভারপুলের সামনে ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ; ঘরের মাঠে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে জিততে হতো। বিপরীতে, প্রথম লেগের জয়ের সুবাদে পিএসজি ছিল অনেকটাই নির্ভার অবস্থানে। জয় বা ড্র তো বটেই, এমনকি এক গোলের ব্যবধানে হারলেও তাদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে কোনো ঝুঁকি না নিয়েই তারা ২-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয়।
প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণের ধার, দুই দিক থেকেই এগিয়ে ছিল পিএসজি। যদিও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে দুই দলই ভুগেছে। আধা ঘণ্টা পেরোনোর আগেই বড় ধাক্কা খায় লিভারপুল। চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন ফ্রেঞ্চ তারকা ফরোয়ার্ড হুগো একিটিকে, তার বদলে মাঠে নামেন মোহাম্মদ সালাহ।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করে লিভারপুল। একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়ালেও গোলের দেখা পায়নি তারা। বরং ৬৮ মিনিটে ডেম্বেলের দুর্দান্ত এক গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পিএসজির দিকে নিয়ে যায়। ডি-বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া পাসে মুহূর্তের মধ্যে জায়গা বুঝে নিখুঁত শট নেন তিনি, গোলকিপার ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি।
যোগ করা সময়ের শুরুতেই আরেকটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেম্বেলে। বারকোলার পাস পেয়ে ডি-বক্সে ফাঁকা অবস্থায় নিচু শটে সহজেই জালে বল জড়িয়ে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত, অ্যানফিল্ডের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে দাপুটে জয় নিয়েই সেমিফাইনালে পা রাখে পিএসজি।