বার্সেলোনার জন্য যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। চলতি মৌসুমে দুইবার তাদের থামিয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে ডিয়াগো সিমিওনের দল। কিন্তু ফুটবলের গল্প সবসময় একরকম থাকে না। যেভাবে তারা অন্যকে কাঁদিয়েছে, ঠিক সেভাবেই কোপা দেল রের ফাইনালে এসে নিজেরাই থেমে গেল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
শেষ পর্যন্ত রিয়াল সোসিয়েদাদই লিখল জয়ের গল্প। ২-২ সমতার পর পেনাল্টির টানটান উত্তেজনায় ৪-৩ ব্যবধানে জিতে চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতে নেয় তারা।
ম্যাচ শুরু হতেই চমক। মাত্র ১৪ সেকেন্ডে হেড থেকে গোল করে বসেন আন্দের বারেনাচেয়া, যা কোপা দেল রে ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম গোল। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। আদেমোলা লুকমানের গোলে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে তারা।
বিরতির আগে আবার মোড় ঘোরে ম্যাচের। পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়াল সোসিয়েদাদকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। দ্বিতীয়ার্ধে জুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এরপর অতিরিক্ত সময়েও কোনো দলই ব্যবধান গড়তে না পারলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টিতে।
সেখানেই নায়ক হয়ে ওঠেন রিয়াল সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক উনাই মারেরো। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। হতাশ করেন দুই মূল ফরোয়ার্ড আলেক্সান্ডার শোরলথ ও হুলিয়ান আলভারেজ, দুজনই পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালিস্ট অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্য এই হারটা আরও কষ্টের। কারণ কোপা দেল রে তারা জিতেছে দশবার, তবে শেষ শিরোপা এসেছিল ২০১৩ সালে। আর সেই অপেক্ষা এবারও বাড়ল।
অন্যদিকে রিয়াল সোসিয়েদাদের গল্পটা একেবারে ভিন্ন। গত ডিসেম্বরে আমেরিকান কোচ পেলেগ্রিনো মাতারাজ্জো দায়িত্ব নেওয়ার আগে দলটির মৌসুম ছিল হতাশায় ভরা। কিন্তু তার হাত ধরেই বদলে যায় সবকিছু। নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নেয় দলটি।