লা লিগার শিরোপার লড়াইয়ে আগে থেকেই পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। শুক্রবার দিবাগত রাতের ম্যাচটা সেই ব্যবধান আরও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। প্রতিপক্ষের মাঠে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে গোল হজম, আর তাতেই হাতছাড়া পুরো তিন পয়েন্ট। শেষ বাঁশি বাজতেই স্কোরলাইন ১-১, কিন্তু অনুভূতিটা যেন হারারই মতো।
শুরুটা কিন্তু রিয়ালের পক্ষেই ছিল। ম্যাচের ছন্দও কয়েকবার নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছিল তারা। তবু পুরো ম্যাচে বেতিসই বেশি আত্মবিশ্বাসী আর আগ্রাসী ফুটবল খেলেছে। বলের দখল, আক্রমণের ধার; সবমিলিয়ে স্বাগতিকদের চাপ সামলাতে হয়েছে রিয়ালকে বারবার। আর সেই কাজটা সবচেয়ে বেশি করেছেন গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিন। একের পর এক সেভে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি, না হলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত। তবু শেষরক্ষা হয়নি।
ম্যাচের শুরুতেই বড় সুযোগ পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ক্লাবের হয়ে শততম ম্যাচ খেলতে নেমে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে মারেন ; যেটা তার মতো খেলোয়াড়ের কাছে অপ্রত্যাশিতই। সেই মিসটা পরে আরও বড় হয়ে ধরা দেয়।
১৭ মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। দূরপাল্লার শটে ভালভার্দে গোলরক্ষককে ব্যস্ত করে তুললে ফিরতি বলে সহজ সুযোগ পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এবার আর ভুল করেননি, জালে বল জড়িয়ে দেন ঠান্ডা মাথায়।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল জুড বেলিংহামের সামনে, কিন্তু সেটাও কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে বেতিসও থেমে থাকেনি। একের পর এক আক্রমণে পরীক্ষা নিতে থাকে রিয়ালের ডিফেন্স আর লুনিনকে। দ্বিতীয়ার্ধে চাপ আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। ৫৪ মিনিটে এমবাপে বল জালে পাঠালেও অফ সাইডের কারণে বাতিল হয় গোল। সেই হতাশার মাঝেই সময় গড়িয়ে যায় শেষ দিকে।
আর ঠিক তখনই আসে ধাক্কাটা। ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে জটলার মধ্যে বল পেয়ে সেটাকে জালে পাঠান সাবেক বার্সেলোনা তারকা হেক্টর বেল্লেরিন। এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় রিয়াল শিবির, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে বেতিস।
এই ড্রয়ে ৩৩ ম্যাচে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরেই থাকল রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে রিয়াল বেতিস। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এক ম্যাচ কম খেলে ৮২ পয়েন্টে; বাকি ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট পেলেই শিরোপা নিশ্চিত হবে কাতালানদের।