ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ার যেন এক দীর্ঘ রূপকথা। তবে সেই গল্পের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি। সামনে আরেকটি সুযোগ, হয়তো শেষবারের মতো। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপেই রোনালদো নামছেন রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো, আর এটিই হতে পারে তার বিদায়ের মঞ্চ।
ক্লাব ফুটবল থেকে ব্যক্তিগত অর্জন, সবই আছে তার ঝুলিতে। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো ধরা দেয়নি। তাই এবারের আসর ঘিরে শুধু ভক্ত নয়, সতীর্থদের মনেও আলাদা এক তাগিদ কাজ করছে। তারা চান, বিদায়ের আগে এই মহাতারকার হাতে তুলে দিতে ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিরোপা।
বর্তমান পর্তুগাল দলটিকে দেখা হচ্ছে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ একটি ইউনিট হিসেবে। আক্রমণভাগ, মাঝমাঠ আর রক্ষণ; সব জায়গাতেই রয়েছে গভীরতা ও সমন্বয়। কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে দলটি এবার নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। দলের অন্যতম ভরসা ব্রুনো ফার্নান্দেজও বিশ্বাস করেন, রোনালদোর দীর্ঘ অবদানের যথার্থ সম্মান হতে পারে একটি বিশ্বকাপ জয়।
বিবিসির এক আলোচনায় ওয়েইন রুনির সঙ্গে কথোপকথনে ফার্নান্দেজ বলেন, ‘রোনালদো যদি শেষ বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেন, তা হবে অসাধারণ অর্জন।’ তার মতে, এমন সাফল্য শুধু পর্তুগালের জন্য নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
৪১ বছর বয়সেও থেমে নেই রোনালদোর পথচলা। এখনো তিনি ছুটছেন নিজের স্বপ্নের পেছনে, ছুঁতে চান ক্যারিয়ারের ১০০০ গোলের অনন্য মাইলফলক। আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলদাতা হয়েও বিশ্বকাপ না জেতার আক্ষেপটা এবার মুছে ফেলতেই তার এই লড়াই।
এরই মধ্যে পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়, ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুটি উয়েফা নেশন্স লিগ, সব মিলিয়ে পর্তুগালকে অনেক গৌরব এনে দিয়েছেন তিনি। তবে শেষ কথাটা এখনো বলা হয়নি।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে খেলবে পর্তুগাল। গ্রুপপর্বে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। ১৭, ২৩ ও ২৭ জুন এই তিন দিনে নির্ধারিত হবে তাদের পরবর্তী যাত্রাপথ। রোনালদোর জন্য এটি শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি হয়তো তার কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।