মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে বড় কোনো গোল উৎসব হয়নি, তবে নাটকীয়তার কমতি ছিল না একদমই। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনাল-এর লড়াইয়ে গোল এসেছে মাত্র দুটি, কিন্তু সেই দুই গোলেই লুকিয়ে ছিল ম্যাচের পুরো গল্প। শুরু থেকেই দুই দল ছিল বেশ সতর্ক। আগের দিন পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচে গোলের বন্যা দেখার পর এখানে এমন সংযত ফুটবল কিছুটা অনুমেয়ই ছিল। প্রথমার্ধে সুযোগ তৈরি হয়েছে হাতে গোনা।
এই সময় হুলিয়ান আলভারেজ একটি সুযোগ পেলেও দূর থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন ডেভিড রায়া। অন্যদিকে ননি মাদুয়েকের শট পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে গেলে স্বস্তি ফেরে স্বাগতিকদের মাঝে। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় বিরতির ঠিক আগে। বক্সের ভেতর ডেভিড হাঙ্কো ফাউল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেসকে। পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন ইয়োকেরেস।
বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। কোচ দিয়েগো সিমিওনে কৌশল পাল্টে ফেলতেই অ্যাটলেটিকো হয়ে ওঠে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে আর্সেনাল। শেষমেশ সমতা আসে পেনাল্টি থেকেই। মার্কোস ইয়োরেন্তের শট হাতে লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি। এবার আর ভুল করেননি আলভারেজ, ১-১।
এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে মাত্র ৪১ ম্যাচে ২৫ গোল পূর্ণ করলেন আলভারেজ, যা আর্জেন্টাইনদের মধ্যে দ্রুততম। পেছনে ফেলেছেন লিওনেল মেসিকেও।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অ্যাটলেটিকোর হাতে। আঁতোয়ান গ্রিজমানের শট লাগে ক্রসবারে, আদেমোলা লুকমান নষ্ট করেন একাধিক সুযোগ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় গোল আর আসেনি।
শেষদিকে আবার উত্তেজনা চরমে ওঠে। আরেকটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি, কিন্তু ভিএআরের সাহায্যে তা বাতিল করা হলে বাঁচে অ্যাটলেটিকো। সাইডলাইনে মিকেল আরতেতা-র ক্ষোভ তখন স্পষ্ট।
শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র, ফলে সেমিফাইনালের উত্তেজনা জমে থাকল লন্ডনের ফিরতি লেগের জন্য। এখন সব হিসাব গড়াবে ইংল্যান্ডে, যেখানে এক ম্যাচেই নির্ধারিত হবে ফাইনালের টিকিট।