ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) শুরুর আগেই বদলের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগে এবার আলোচনায় উঠে এসেছে মাঠের বাইরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ক্রিকেটারদের খাবার।
আগামী ৪ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। এরপর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ডিপিএলের নতুন মৌসুম নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে ক্রিকেটারদের মধ্যাহ্নভোজে। দীর্ঘদিন ধরেই ডিপিএলে খেলোয়াড়দের দুপুরের খাবারে থাকত ভাত, আলু ভর্তা ও গরুর মাংস; যা পুষ্টিগুণ থাকলেও পেশাদার ক্রিকেটারদের ফিটনেসের জন্য আদর্শ নয় বলে মনে করা হয়।
এই বিষয়টি মাথায় রেখে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। এখন থেকে ম্যাচ চলাকালীন দুপুরের খাবারে থাকছে গ্রিলড চিকেন। অর্থাৎ, খাবারের তালিকায় আনা হয়েছে আরও স্বাস্থ্যকর ও ফিটনেস-সহায়ক পরিবর্তন।
তামিম বলেন, ‘চেষ্টা করব যারা খাবারের বিষয়টা দেখেন (ডিপিএল) তাদেরকে দিয়ে ভালো মেনু সেট করাতে। আশা করি এবারের খাবারের মান অনেক ভালো হবে। আগে আলু ভর্তা, গরুর মাংস আর ভাত থাকতো। এবার গ্রিল চিকেনে নিয়ে আসা হবে।’
হঠাৎ করে খাবারে পরিবর্তন আনলে মানিয়ে নিতে সময় লাগলেও এটা কাজে দেবে বলে মনে করেন তামিম, ‘বিসিবির তরফ থেকে প্রত্যেকটা দলকে দুপুরের খাবার দিচ্ছি। আমি এটা জানি যে যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, হঠাৎ করে তাদের ভাতের অভ্যাস থেকে গ্রিল চিকেনে নিয়ে আসা কঠিন হবে। যদিও জাতীয় দল, অনূর্ধ্ব ১৯ বা এ দলের ক্রিকেটাররা এটাতে অভ্যস্ত।’
খাবার নিয়ে বিসিবির আগের সব নিয়মের সমালোচনা করে তামিম বলেন, ‘ফিটনেস টেস্ট শেষ করার পর যখন লাঞ্চ দিত ওই জায়গায় আলু ভর্তা, গরুর মাংস আর ভাত থাকত। যদি আপনি ফিটনেসকে নিয়ে এত চিন্তিত বা ফিটনেসের আপনি একটা মানদণ্ড নির্ধারণ করতে চান, আপনার তো সব দিকটা অন্তত চেষ্টা করতে হবে কাভার করার জন্য। আমরা ফিটনেস নিয়ে অনেক কথা বলতাম বা ফিটনেস নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিলাম। অনেক প্লেয়ারকে এত স্কোর না করলে অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হতো না। কিন্তু ওই ফিটনেস টেস্ট শেষ করার পর যখন দুপুরের খাবার দিত, ওই জায়গায় আলু ভর্তা, গরুর মাংস আর ভাত থাকত।’
কোনো ক্রিকেটার ঝরে যাক সেটা চান না তামিম, ‘মাঠে খেলা ফিরছে, প্লেয়াররা খেলবে, আমরা সবাই খেলা উপভোগ করব এবং আর্থিকভাবে খেলোয়াড়রা লাভবান হবে। আমি নিশ্চিত এখানে অনেকেই আমরা নিউজ দেখেছি যে দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগের প্লেয়াররা ক্রিকেট ছেড়ে অনেকেই ফুচকা বিক্রি করছে, রিকশা চালাচ্ছে-এ রকমও কাহিনী আমরা শুনেছি। আমরা এমনটা চাই না।’