বুদাপেস্টের স্বপ্ন নাকি আরেকটি দীর্ঘশ্বাসউত্তর লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে আজ রাতেই নির্ধারণ হয়ে যাবে আর্সেনাল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ভাগ্য। দুই দলের কেউই এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ছুঁতে পারেনি, তাই এই ম্যাচ শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ইতিহাস ছোঁয়ার দরজাও বটে।
প্রথম লেগে মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানোতে ১-১ ড্র হওয়ায় সমীকরণ একেবারেই খোলা। কোনো দলেরই বাড়তি সুবিধা নেই, ফলে বুদাপেস্টের ফাইনালের টিকিট পেতে আজ জয়ের বিকল্প নেই কারোরই।
পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে আর্সেনালই এগিয়ে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ২৩ ম্যাচে মাত্র দুই হার, আর এই মৌসুমেই এমিরেটসে অ্যাটলেটিকোকে ৪-০ গোলে হারানোর স্মৃতি দলটিকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের সামনে আরতেতার দল শুরু থেকেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
তবে অ্যাটলেটিকোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইংল্যান্ডে তাদের সাম্প্রতিক রেকর্ড দুর্বল হলেও দিয়েগো সিমিওনের দল সব সময়ই ঘুরে দাঁড়াতে জানে। তৃতীয়বারের মতো দলকে ফাইনালে তুলতে কৌশলে কোনো ঘাটতি রাখবেন না তিনি।
ম্যাচের চিত্রটা অনেকটাই পরিষ্কার, আর্সেনাল বল দখলে আধিপত্য দেখাতে চাইবে, আর অ্যাটলেটিকো অপেক্ষা করবে কাউন্টার অ্যাটাক ও সেট-পিসের সুযোগের জন্য। তবে এবার সিমিওনের দল কিছুটা আক্রমণাত্মক রূপও দেখাচ্ছে। চলতি আসরে ৩৫ গোল করা দলটি টানা ৩৭ ম্যাচে গোল করেছে, যা তাদের আক্রমণের ধারই প্রমাণ করে।
এই ম্যাচে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ আর রক্ষণভাগের ছোট ভুলই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বিশেষ করে আর্সেনালের হাই-লাইন ডিফেন্সের বিপক্ষে হুলিয়ান আলভারেজের গতি হতে পারে বড় হুমকি। প্রথম লেগের মতো আজও এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডই হতে পারেন সিমিওনের তুরুপের তাস। তার সঙ্গে আঁতোয়ান গ্রিজমানের অভিজ্ঞতা আতলেতিকোর আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
অন্যদিকে ভিক্টর গিওকেরেশ গোল পেলে গড়তে পারেন বিশেষ এক রেকর্ড। সাদিও মানে ও রিয়াদ মাহরেজের পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে কোনো ইংলিশ ক্লাবের হয়ে সেমিফাইনালের দুই লেগেই গোল করার কীর্তি।
দুই দলই অবশ্য চোট সমস্যায় ভুগছে। আর্সেনাল পাচ্ছে না টিম্বার, মেরিনো ও কাই হাভার্টজকে। অ্যাটলেটিকোও নামবে পাবলো ব্যারিওস ও হোসে জিমেনেজকে ছাড়াই।
অপটা সুপার কম্পিউটার আর্সেনালকে এগিয়ে রাখলেও, নকআউটের ম্যাচে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। এমিরেটসের উত্তাল পরিবেশ, এক মুহূর্তের জাদু; সবমিলিয়ে আজ রাতেই জানা যাবে, বুদাপেস্টের পথে শেষ হাসি কার।