মিরপুর টেস্টে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন পাকিস্তানের তরুণ ওপেনার আজান ওয়াইস। অভিষেক ম্যাচেই তুলে নিলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি, আর তাতেই ছুঁয়ে ফেললেন ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ড।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করার পর বেশ স্বস্তিতেই ছিল। তবে সেই স্বস্তি দ্রুতই উধাও করে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ১০৬ রান। আর সেই জুটির নেতৃত্বে ছিলেন অভিষিক্ত আজান। ইনিংসের প্রথম বলটাও খেলেন তিনিই। যদিও ওপাশে ছিলেন ৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইমাম উল হক।
শুরুটা অবশ্য খুব সহজ ছিল না আজানের জন্য। মাত্র ৭ রানে ব্যাট করার সময় নাহিদ রানার ১৪১ কিলোমিটার গতির বল গিয়ে লাগে তার হেলমেটে। কিছু সময়ের জন্য থেমে যায় খেলা। তবে ধাক্কা সামলে আবারও ক্রিজে ফিরে আসেন তিনি।
এরপর যেন বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এই তরুণ ব্যাটার। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন দুর্দান্ত সব শট। ওপেনিং সঙ্গীকে হারালেও নিজের উইকেট আর দেননি। প্রথম দিন শেষ করেন ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে।
দ্বিতীয় দিনের সকালে সেঞ্চুরি পূরণ করতে সময় নেন মাত্র ৫ ওভার। দিনের পঞ্চম ওভারে নাহিদ রানার বলে সিঙ্গেল নিয়ে পৌঁছে যান তিন অঙ্কে। এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়েই গড়েন বিরল এক কীর্তি। পাকিস্তানের হয়ে ওপেনার হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা ব্যাটারের সংখ্যা ছিল পাঁচ। খালিদ ইবাদুল্লাহ, আলী নাকভি, তৌফিক ওমর, ফাওয়াদ আলম ও আবিদ আলি ছিলেন সেই তালিকায়।
তবে তাদের মধ্যে কেবল খালিদ ইবাদুল্লাহই ইনিংসের প্রথম বল খেলেছিলেন। অর্থাৎ প্রকৃত ওপেনার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সালের পর দীর্ঘ ৬২ বছর এই রেকর্ডে আর কেউ ভাগ বসাতে পারেননি। অবশেষে সেই কীর্তিই করে দেখালেন আজান ওয়াইস।
যদিও সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। তাসকিন আহমেদের বলে ১০৩ রান করে আউট হয়ে ফেরেন ড্রেসিংরুমে। তবে তার আগেই পাকিস্তানকে এনে দিয়েছেন দারুণ এক ভিত।