২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন। এবার শুধু নতুন ফরম্যাট নয়, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বৈচিত্র্য নিয়েও বাড়ছে আলোচনা। বিশেষ করে নজর কাড়ছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর রেকর্ড উপস্থিতি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারই প্রথমবারের মতো এত বেশি মুসলিম দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে। ৪৮ দলের নতুন এই আসরে খেলবে ১৪টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ২০২২ বিশ্বকাপে যেখানে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৬, সেখানে এবার তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিত্ব হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মোট অংশগ্রহণকারী দলের প্রায় ৩০ শতাংশই এবার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের।
মহাদেশভিত্তিক হিসাব করলে সবচেয়ে বড় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে এশিয়া ও আফ্রিকা অঞ্চল থেকে। এশিয়া থেকে জায়গা করে নিয়েছে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ইরান, ইরাক ও উজবেকিস্তান। ছয়টি দেশ নিয়েই এশিয়ার শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে এবারের বিশ্বকাপে।
আফ্রিকা থেকেও অংশ নিচ্ছে ছয়টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। তালিকায় রয়েছে নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর ও সেনেগাল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার দেশগুলোর উন্নতি বিশ্ব ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, আর এবার সেটিরই বড় প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে।
ইউরোপ থেকেও থাকছে দুটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। তুরস্ক ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবার প্রতিনিধিত্ব করবে ইউরোপ অঞ্চলের হয়ে। তবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে এবার কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ জায়গা করে নিতে পারেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে কিছু আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের গল্পও রয়েছে। প্রায় ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফিরছে ইরাক। অন্যদিকে দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে তুরস্ককে। এবার আলাদা নজর থাকবে মরক্কোর দিকেও। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া দলটি এবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে চায়। আফ্রিকা ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে আগের আসরে তারা যে আলোড়ন তুলেছিল, সেটি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে তাজা।