অনেক আগেই ইতিহাসে লেখা হয়েছে ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির নাম । তবে মাঠের বাইরেও যে তিনি কতটা বড় মনের মানুষ, তার আরেকটি অজানা গল্প এবার সামনে এলো। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর পাওয়া বোনাসের বড় একটি অংশ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এত দিন বিষয়টি আড়ালেই ছিল। অবশেষে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক ফিটনেস কোচ জেরার্দো সালোরিও প্রকাশ করেছেন সেই গল্প। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করা এই কোচ জানান, বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে রাখেননি মেসি, বরং এজেইজা ট্রেনিং গ্রাউন্ডের কর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা দেখিয়েছিলেন তিনি।
‘ভিভে পারা কন্তারলো’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালোরিও বলেন, ‘মেসি কাতার বিশ্বকাপের পুরস্কারের অর্থ এএফএ ট্রেনিং গ্রাউন্ডের সব কর্মচারীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দিয়েছিল।’
কর্মীরা ঠিক কত অর্থ পেয়েছিলেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ না করলেও সালোরিও ইঙ্গিত দেন উপহারের পরিমাণ কতটা বড় ছিল। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কর্মচারী যে অর্থ পেয়েছিল, তা দিয়ে প্রায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সম্ভব ছিল।’
সাক্ষাৎকারে মেসির আরেকটি মানবিক ঘটনার কথাও তুলে ধরেন সালোরিও। ২০১৬ সালে এএফএর প্রশাসনিক সংকটে কয়েক মাস বেতন পাননি কর্মচারীরা। তখন একজন কর্মচারী সরাসরি মেসির কাছে বিষয়টি জানান। সালোরিও বলেন, ‘এক কর্মচারী গিয়ে মেসিকে বলেছিলেন, ‘লিও, আমরা তিন মাস ধরে বেতন পাইনি।’ তখন মেসি জানতে চাইল কত টাকা বাকি আছে। এরপর বলেছিল, সে বিষয়টি দেখবে। কিছুক্ষণ পরই কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে যায়।’
মেসির ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশংসা করেন সালোরিও। তার ভাষায়, ‘ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসে। সে সব পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, খুবই মাটির মানুষ। ওর মতো আর কাউকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে।’
জাতীয় দলের স্টাফদের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক বরাবরই ছিল দারুণ আন্তরিক। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর লুসাইল স্টেডিয়ামে দলের রাঁধুনি আন্তোনিয়া ফারিয়াসকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্যও বেশ আলোচনায় এসেছিল। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি এমন মানবিক আচরণই মেসিকে আরও আলাদা করে তোলে কোটি ভক্তের চোখে।