২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালের সেই ছবি আজও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। এক পাশে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতেছিল আর্জেন্টিনা, অন্য পাশে হৃদয়ভাঙা ব্রাজিল। কিন্তু মারাকানার টানেলের সিঁড়িতে বসে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের হাসিমাখা আড্ডা যেন ফুটবলের বাইরের এক অন্য গল্প বলেছিল।
সম্প্রতি কনমেবলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই রাতের স্মৃতি নিয়ে মুখ খুলেছেন নেইমার। জানিয়েছেন, ছবিটি দেখলে আজও তার মনে একসঙ্গে জন্ম নেয় কষ্ট আর শান্তির অনুভূতি। ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনাল হারার যন্ত্রণা তাকে ভেঙে দিয়েছিল। একজন ব্রাজিলিয়ান হিসেবে সেই হার মেনে নেওয়া ছিল খুব কঠিন। তবে ম্যাচ শেষে হঠাৎই উপলব্ধি করেছিলেন, ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের গল্প নয়, এর চেয়েও অনেক বড় কিছু।
সান্তোস তারকা জানান, ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে গিয়ে তিনি কেঁদেছিলেন এবং ভেতরের সব হতাশা বের করে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে যখন পিএসজিতে তার তৎকালীন সতীর্থ মেসি ও পারেদেসকে সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখেন, তখন নিজেকে আর আটকাতে পারেননি। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই গিয়ে বসে পড়েন তাদের পাশে।
সেদিনের কথোপকথন নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘আমরা খেলা নিয়ে কোনো কথাই বলিনি। আমরা কথা বলছিলাম প্যারিসে আমাদের দৈনন্দিন জীবন, আমাদের পরিবার আর মহামারী (করোনা) নিয়ে। তখন আমার মনে হয়েছিল, চরম দুঃখ আর বিশৃঙ্খলার মাঝেও এটিই হলো প্রকৃত সুখ খুঁজে নেওয়ার মুহূর্ত।’
নেইমারের মতে, মাঠের লড়াই কখনো মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আপনি যে দলের জার্সিই পরুন না কেন, কিংবা যে দেশেরই হোন না কেন; দিনশেষে আমরা সবাই মানুষ। সবারই অনুভূতি আছে, আনন্দ আছে এবং আমরা একে অপরের বন্ধু।’
লিওনেল মেসিকে ফুটবলের ‘নম্বর ওয়ান’ বলেও প্রশংসা করেন নেইমার। তার ভাষায়, ‘ছবিটি দেখায় যে দুজন মানুষ একটি শিরোপার জন্য নিজেদের উজাড় করে লড়াই করেছে এবং ম্যাচ শেষে তারা একসাথে হাসিমুখে বসার মতো আনন্দ খুঁজে পেয়েছে। একজন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, অন্যজন পরাজিত; কিন্তু আমাদের বন্ধুত্ব সবকিছুর ঊর্ধ্বে। মেসি এবং পারেদেস মাঠের বাইরে অসাধারণ দুজন মানুষ।’
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নেইমারের এই স্মৃতিচারণ নতুন করে নাড়া দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।