চিলির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয় পেলেও পর্তুগালের রাতটা ছিল ঘটনাবহুল। ক্রিশটিয়ানো রোনালদোর গোল অফসাইডে বাতিল হয়েছে, লাল কার্ড দেখেছেন পর্তুগালের রাফায়েল লিয়াও, আর শেষ পর্যন্ত চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে রোবের্তো মার্তিনেজের দল।
লিসবনের এস্তাদিও নাসিওনাল দো জামোরে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পর্তুগাল। প্রথমার্ধে মাঠে ছিলেন রোনালদো। ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের থ্রু বলে এগিয়ে গিয়ে চিলি গোলরক্ষক লরেন্স ভিগুরুকে একা পেয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তবে অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। এর আগেও রোনালদোর দুটি শট ঠেকিয়ে দেন ভিগুরু।
বিরতির ঠিক আগে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ৪৫তম মিনিটে পর্তুগালের রাফায়েল লিয়াও এবং চিলির ইভান রোমান দুজনেই লাল কার্ড দেখেন। চিলির গোল লাইনের কাছে ফেলিপে ফাউন্দেজ এবং পর্তুগালের ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের মধ্যে একটি চ্যালেঞ্জের পর গণ্ডগোলের শুরু হয়। রোমান ও ফাউন্দেজ কনসেইসাওয়ের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লে সতীর্থকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন লিয়াও। এরপর লিয়াও ও রোমান পরস্পরকে ধাক্কা দিতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে রোনালদোসহ কয়েকজন খেলোয়াড় এগিয়ে আসেন।
বিরতির পর রোনালদোকে আর মাঠে নামাননি কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ। একসঙ্গে ছয়টি পরিবর্তন আনেন তিনি। রোনালদোর বদলে মাঠে নামা গনসালো গুয়েদেসই দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগালের হয়ে প্রথম গোলটি করেন। ৫৭তম মিনিটে রুবেন নেভেসের থ্রু বলে বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন গুয়েদেস।
এরপর ৭৪তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ব্রুনো ফার্নান্দেস। ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের সহায়তায় বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে গোল করেন তিনি। বলটি গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে কোণে জালে জড়ালে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
যোগ করা সময়ে চিলির লুকাস সেপেদা বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে একটি গোল শোধ করেন। তবে তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।
রোনালদোর গোল বাতিল, বিরতির আগে জোড়া লাল কার্ড এবং দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স; সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে এই ম্যাচটি পর্তুগালের জন্য ছিল জয় ও সতর্কবার্তা, দুটোই।