অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন বাংলাদেশের গতি তারকা নাহিদ রানা। গতির ঝড় তুলে অজি ব্যাটারদের চাপে রাখলেও, মাঠের আচরণে শেষ পর্যন্ত নিজেকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি এই তরুণ পেসার। অজি ব্যাটারকে আউট করার পর আগ্রাসী উদযাপনের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তি পেয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১১তম ওভারে। অজি অধিনায়ক জশ ইংলিসকে সাজঘরে ফেরানোর পর নাহিদ রানাকে ব্যাটারের দিকে আগ্রাসী ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে এবং কিছু বলতে দেখা যায়। মুহূর্তেই মাঠের আবহ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইংলিশও সেই সময় পাল্টা তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
রানার এমন আচরণে আইসিসির আচরণবিধির ২.৫ অনুচ্ছেদ ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাটসম্যান আউট হয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় তাকে উত্যক্ত করা, খেপিয়ে তোলা বা অপমানজনক ভাষা ও অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ।
অভিযোগ ওঠার পর নাহিদ রানা নিজের ভুল স্বীকার করে নেন। ফলে আর কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। লেভেল-১ পর্যায়ের এই অপরাধে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধে সর্বনিম্ন শাস্তি তিরস্কার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা ও দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে নাহিদ রানার জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা হলো, বিগত ২৪ মাসের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় অপরাধ। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে ফলো-থ্রুতে আইরিশ ব্যাটার কেড কারমাইকেলের দিকে বল ছুড়ে মেরেছিলেন রানা। সেই ঘটনায় তাকে ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয় এবং ক্যারিয়ারের প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়। নতুন শাস্তির পর তার নামের পাশে মোট ডিমেরিট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে দুই।
আইসিসির আইন অনুযায়ী, ২৪ মাসের চক্রে কোনো ক্রিকেটার চার বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে তা সাসপেনশন পয়েন্টে রূপ নেয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার নিষিদ্ধ হতে পারেন। দুটি সাসপেনশন পয়েন্টের কারণে একজন ক্রিকেটারকে একটি টেস্ট অথবা দুটি সীমিত ওভারের ম্যাচ মাঠের বাইরে কাটাতে হতে পারে।
বল হাতে নাহিদ রানার গতি বাংলাদেশের জন্য বড় শক্তি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু গতি নয়, নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্বপ্নের মাঝেই তাই তরুণ এই পেসারকে এখন মাঠের আচরণে আরও সতর্ক হতে হবে।