যে কোনো ফুটবলারের জন্যই এটি এক অনন্য মুহূর্ত হলো বিশ্বকাপে অভিষেক। সেই অভিষেককে আরও বিশেষ করে তুলতে ফিফা এবার ব্যাজেরও ব্যবস্থা করেছে, যেন প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রথম বিশ্বকাপ স্মৃতি আলাদা করে চিহ্নিত থাকে।
তবে সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারির অভিষেক ছিল সাধারণ কোনো গল্প নয়; এটি ছিল আবেগ, ইতিহাস আর পারিবারিক টানাপোড়েনের এক অনন্য মিশ্রণ। কারণ তার প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচটি ছিল নিজের বাবার দেশ তিউনিসিয়ার বিপক্ষেই।
ইয়াসিনের বাবা আজ্জুজ আয়ারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা তিউনিসিয়ায়। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি সুইডেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন পুরোপুরি সফল না হলেও, ফুটবল তাকে সাফল্য এনে দেয় অন্যভাবে, তার ছেলের মাধ্যমে।
সুইডেনে জন্ম নেওয়া ইয়াসিন আয়ারি ধীরে ধীরে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের জায়গা করে নেন। একসময় তিউনিসিয়া জাতীয় দলও তাকে দলে টানতে চেয়েছিল। এমনকি ২০২২ বিশ্বকাপে তাদের হয়ে খেলার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নেন সুইডেনকেই।
এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবার। আজ্জুজ আয়ারি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে তিউনিসিয়ার হয়ে খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে বললাম সুইডেনের হয়ে খেলতে। কারণ এই দেশটিই তাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গড়ে তুলেছে। এটা তার দায়িত্ব ছিল কিছু ফিরিয়ে দেওয়া।’
বাবার সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত আরও স্পষ্ট হয় ইয়াসিনের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমি সুইডেনে জন্মেছি, নিজেকে সুইডিশ মনে করি। সুইডেনই সেই দেশ যাকে আমি প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’
তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামুশিও তাকে ভালোভাবে চেনেন এবং তার প্রতিভার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে এবং তার ভাইকে চিনি। সে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি সেটাকে অনেক সম্মান করি। সে খুব ভালো খেলোয়াড়। ম্যাচের পরে তার জন্য শুভকামনা, তবে সেটা ম্যাচের পরে।’
কিন্তু সেই শুভকামনা যেন ম্যাচের আগেই উল্টো হয়ে যায় ইয়াসিনের জন্য। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই সুইডেনকে এগিয়ে দেন তিনি নিজেই, গোল করেন বাবার দেশের বিপক্ষে। উদযাপনে দুই হাত তুলে থেমে যান তিনি, তারপর স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।
শুধু গোল নয়, আরও একবার ম্যাচে প্রভাব রাখেন আয়ারি। তার নিখুঁত পাস থেকে সভেনবার্গের গোলে আসে সুইডেনের চতুর্থ গোল, যেখানে পরোক্ষভাবে অ্যাসিস্ট করেন ইসাক। আর ম্যাচের শেষ অধ্যায়ে আসে আরও এক মুহূর্ত, বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়াসিন আয়ারি। এবার আর কোনো সংযম নয়, আবেগের পূর্ণ বিস্ফোরণ।
বাবার দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেকে জোড়া গোল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট; ইয়াসিন আয়ারির জন্য এর চেয়ে ‘স্পেশাল’ শুরু আর কীই বা হতে পারত!