একটি ম্যাচে গোল নেই, তাই নেই কোনো নাটকীয় জয়। কিন্তু তারপরও বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম। ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে খুব কম গোলরক্ষকই স্পর্শ করতে পেরেছেন।
শনিবার দিবাগত রাতের ম্যাচে ইকুয়েডরের আক্রমণের সামনে বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। পুরো ম্যাচে ১৫টি সেভ করে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ সেভের যৌথ রেকর্ডে নাম লেখান। সেই সঙ্গে কুরাসাও পেয়ে যায় নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট।
মাত্র কয়েক মাস আগেও জ্যামাইকার বিপক্ষে ক্লিন শিট রেখে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রুম। এরপর জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারলেও ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছেন।
ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে সেভকে অফিসিয়াল পরিসংখ্যান হিসেবে গণনা শুরু হওয়ার পর কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে এটিই সর্বোচ্চ সেভের যৌথ রেকর্ড। এর আগে ২০১৪ সালের ১ জুলাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের টিম হাওয়ার্ড ১৫টি সেভ করেছিলেন। এবার সেই কীর্তির পাশে জায়গা করে নিলেন রুম।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সারির লিগ ইউএসএল চ্যাম্পিয়নশিপে মায়ামি এফসির হয়ে খেলেন এই গোলরক্ষক। এর আগে কলম্বাস ক্রুর হয়ে এমএলএস কাপও জিতেছেন। তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্সকে বিশেষ করে তুলেছে আরেকটি পরিসংখ্যান। ক্লিন শিট রেখে কোনো গোলরক্ষকের এত সেভের রেকর্ড এটাই প্রথম। পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ে না গড়ানো কোনো ম্যাচেও এত সেভের নজির নেই।
শুধু রুমই নন, ইতিহাসের অংশ হয়েছে ইকুয়েডরও। ম্যাচে তাদের ১৫টি অন-টার্গেট শট ছিল, যা ১৯৬৬ সালের পর কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করতে না পেরেও সর্বোচ্চ অন-টার্গেট শটের রেকর্ড। এই পরিসংখ্যানটি পুরুষ বিশ্বকাপের জন্য প্রযোজ্য।