শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায় যখন পুরো স্টেডিয়াম, তখনই ম্যাচের ভাগ্য লিখলেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। ইনজুরি টাইমের ৯৬তম মিনিটে তার দুর্দান্ত গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে পাওয়া এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। প্রথম ২৫ মিনিটে প্রায় পুরো সময়ই খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গুইমারেস, কুনহা ও পাকেতারা একের পর এক আক্রমণ সাজালেও গোলের দেখা মিলছিল না। অন্যদিকে নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল জাপান।
কিন্তু ম্যাচের গতিপথ বদলে যায় ২৯তম মিনিটে। মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে জাপান। সানোর দূরপাল্লার নিখুঁত শট ব্রাজিল গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এশিয়ার দলটি।
গোল হজমের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি ব্রাজিল। তবে প্রথমার্ধে মারকুইনহোসের হেড, ভিনিসিয়ুসের শট এবং কুনহার প্রচেষ্টা বারবার আটকে দেন জাপানি গোলরক্ষক সুজুকি। ফলে বিরতিতে এক গোলে পিছিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সেলেসাওদের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিবর্তনের পথে হাঁটেন ব্রাজিলের কোচ। পাকেতার জায়গায় নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে। বদল আসে খেলার ছন্দেও। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল এবং একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে।
৫২ মিনিটে গুইমারেসের শক্তিশালী হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। তিন মিনিট পর ক্যাসেমিরোর কাছ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান তোমিয়াসু। তবে বেশিক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে রাখতে পারেনি জাপান। ৫৬তম মিনিটে কর্নার পরিস্থিতি থেকে পাওয়া সুযোগে ক্যাসেমিরো গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
সমতা ফেরার পর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এন্দ্রিক ও ভিনিসিয়ুসের সমন্বয়ে আরও কয়েকটি আক্রমণ তৈরি হলেও জাপানের রক্ষণভাগ এবং সুজুকির দৃঢ়তায় গোলের দেখা মিলছিল না।
শেষ ১৫ মিনিটে জাপান নিজেদের অর্ধে প্রায় সবাইকে নিয়ে রক্ষণ গড়ে তোলে। ব্রাজিল কর্নার ও ক্রস থেকে একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোল আসছিল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ছয় মিনিট।
ম্যাচ যখন ৯০ মিনিটের ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে নাটকীয় মুহূর্ত। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে মাঝমাঠে তানাকার ভুলে বল পেয়ে দ্রুত আক্রমণ সাজান ব্রুনো গুইমারেস। তার নিখুঁত থ্রু পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে বল সামলে ডান পায়ের জোরালো শটে সুজুকিকে পরাস্ত করেন। পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায় বল, আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল শিবির।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। একসময় পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তনের নজির গড়ে তারা নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট। জাপান বিদায় নেয় লড়াকু পারফরম্যান্স উপহার দিয়েই।