চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পক্ষপাতিত্ব করছে, এমন অভিযোগে যখন ফুটবল অঙ্গন সরগরম, তখন সেই বিতর্ককে একেবারেই আমলে না নিয়ে বরং সমালোচনাকেই দলের শক্তিতে পরিণত করার বার্তা দিলেন আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিতভাবে স্কালোনি বলেন, টুর্নামেন্টে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার জয় দেখতে চান না। আর সেই কারণেই বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাকে জড়িয়ে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফার আনুকূল্যের বিষয়টি। মূলত নকআউট পর্বে মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে বেশ কিছু বিতর্কিত রেফারিং ও ভিএআর সিদ্ধান্তকে ঘিরেই এই যৌক্তিক সমালোচনা শুরু হয়। ওই ম্যাচে মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়া এবং তাদের পেনাল্টির আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর মিশরের কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা ম্যাচ অফিশিয়ালদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এছাড়াও, কোনো কোনো সমালোচকের দাবি, ব্যবসায়িক স্বার্থেই বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চায় ফিফা। এসব অভিযোগের জবাবে স্কালোনি বলেন, ‘আসল বিষয়টা হলো, আমরা গতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি বলেই হয়তো এখন অনেক বেশি মানুষ আমাদের পরাজয় দেখতে চায়। আমরা এই বিষয়টি মাথায় রাখছি এবং সত্যি বলতে, এটা আমাদের খেলোয়াড়দের ওপরও প্রভাব ফেলে।’
তবে এই পরিস্থিতিকে দুর্বলতা নয়, বরং বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি বলেন, আমরা এই সমালোচনা ও মন্তব্যগুলোকে মাঠে বিদ্রোহ করার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছি। একটি যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তুলে খেলোয়াড়দের আরও দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে এটি উদ্বুদ্ধ করছে।’
পাশাপাশি এমন অভিযোগকে নতুন কিছু বলেও মনে করেন না স্কালোনি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ সালেও লোকে বলেছিল আমাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তাই এটা নতুন কিছু নয়। আমার যতদূর মনে পড়ে, আর্জেন্টিনা সবসময়ই টুর্নামেন্টে আলোড়ন সৃষ্টি করা দলগুলোর একটি। প্রতিপক্ষ বা একদল মানুষ চাইবেই না অন্য কোনো দল জিতুক, এটাই স্বাভাবিক।’
ভিএআর প্রযুক্তির যুগে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার ভাষায়, ভিএআর-এর যুগে এসে কোনো নির্দিষ্ট দলকে রেফারিদের পক্ষে সাহায্য করা অসম্ভব বললেই চলে। এখানে দ্বিমুখী ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমাদের যে ওরিয়েন্টেশন কোর্স করানো হয়েছিল, সেখানে সমস্ত ফুটেজ দেখিয়ে নিয়মগুলো একদম স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং টুর্নামেন্টে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে।’
সব বিতর্কের মাঝেই এখন মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগী ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আগামী রোববার (১২ জুলাই) বহুল প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।