আটলান্টায় শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই লেখা হলো বিশ্বকাপের নতুন ইতিহাস। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন, স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম এমন একটি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এটি হবে স্প্যানিশ ভাষাভাষী দুই দেশের মধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ফাইনাল। এর আগে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে শিরোপার লড়াই হয়েছিল উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে।
সেমিফাইনালে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা। তবে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরে। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
ইংল্যান্ডের হারটা মূলত আসে শেষ ৩১ মিনিটে। গর্ডনের গোলের পর থেকে এনজোর সমতাসূচক গোল পর্যন্ত সময়টায় ইংল্যান্ডের বল দখল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। অ্যাটাকিং থার্ডে তারা বল ছুঁয়েছে মাত্র ৯ বার, যেখানে আর্জেন্টিনা একই সময়ে ১৭৪ বার বল নিয়ন্ত্রণ করেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে হাইড্রেশন ব্রেকের পর কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক ৫-৪-১ ফরমেশনে চলে যায় ইংল্যান্ড। লিড ধরে রাখতেই বেশি মনোযোগ দেয় টমাস টুখেলের দল। কিন্তু এতে উল্টো আক্রমণের পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে যায় ইংলিশ রক্ষণ।
আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল লিওনেল মেসির। গোল না করলেও দুই গোলের আক্রমণ তৈরিতে ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। বিশেষ করে যোগ করা সময়ে দুর্বল ডান পায়ে দেওয়া তার নিখুঁত ক্রস থেকেই জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ। বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তে গোল করা যেন এবার আর্জেন্টিনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। চলতি আসরে ৭৫ মিনিটের পর দলটির এটি ১১তম গোল।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেন, দল অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের সিংহভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছে আমরা শুধু লিডটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই পর্যায়ের ফুটবলে শুধু এতটুকু দিয়ে পার পাওয়া যায় না। তাই খুব কষ্ট হচ্ছে কারণ, এই পর্যায়ে আসতে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোল করে তারা আক্রমণভাগে খেলোয়াড় বাড়িয়েছে, নাকি আমরাই তাদের ম্যান-মার্কিংয়ে টেক্কা দিতে পারিনি—সেটা জানি না। তবে একের পর এক আক্রমণের ঢেউ ঠেকিয়ে আমরা কেবল লিড ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।’
এখন শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় দুই মহাদেশের দুই চ্যাম্পিয়ন।