আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই জানিয়েছেন, কুসংস্কারের কারণে তিনি স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে যাবেন না। বরং টুর্নামেন্টের আগের সাতটি ম্যাচের মতোই তিনি নিজের সরকারি বাসভবন অলিভোস থেকেই খেলা দেখবেন। ওই সাতটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
মাইলেই জানান, দলের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের আশায় তিনি আগের ম্যাচগুলোর মতো একই ভারী জ্যাকেট পরে থাকবেন। তার বিশ্বাস, এই রুটিন বদলানো উচিত হবে না।
বিশ্বজুড়ে অনেক সমর্থক ও খেলোয়াড়ই বিশ্বাস করেন, কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস বা আচার তাদের দলের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে কিংবা প্রতিপক্ষের জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনে। তবে লাতিন আমেরিকা, বিশেষ করে আর্জেন্টিনায় এসব কুসংস্কার বা ‘কাবালা’ জাতীয় দলের ফুটবলকে ঘিরে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক রেডিও সাক্ষাৎকারে মাইলেইকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফাইনাল দেখতে নিউ জার্সিতে যাবেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই না। আমি অলিভোস থেকেই সব ম্যাচ দেখব।’
পরে সাংবাদিক জানতে চান, এটি কি কুসংস্কারের কারণে? জবাবে মাইলেই বলেন, ‘হ্যাঁ।’ এরপর তিনি নিজের আরেকটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরেন।
মাইলেই বলেন, ‘এখন ঠান্ডা, কিন্তু আমি হিটার চালাই না। তাই একটি তেল কোম্পানির লোগোযুক্ত জ্যাকেট পরে থাকি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন খুব গরম লাগছিল, তাই জ্যাকেট খুলে ফেলেছিলাম। ঠিক তখনই তারা আমাদের বিপক্ষে গোল করে। পরে আবার জ্যাকেট পরে নিই এবং এরপর আর তা খুলি না।’
মাইলেইয়ের মতো অনেক আর্জেন্টাইনই বিশ্বাস করেন, দল জিততে থাকলে ম্যাচের সময় একই রুটিন অনুসরণ করতে হবে। কেউ প্রতিটি ম্যাচে একই পোশাক পরেন, কেউ পুরো বিশ্বকাপজুড়ে নিজের জার্সি ধোয়া থেকে বিরত থাকেন। আবার কেউ একই জায়গায় বসে খেলা দেখেন। এমনও বিশ্বাস আছে, আর্জেন্টিনা গোল করার সময় কেউ যদি বাথরুমে থাকেন, তাহলে পরের ম্যাচগুলোতেও তার খেলা না দেখাই ভালো।
ছোট ছোট কাজও অনেক সময় বিশেষ গুরুত্ব পায়। চলতি বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল করতে শুরু করার সময় একদল সমর্থক বাইবেল পাঠ শুরু করেছিলেন। এরপর থেকে তারা প্রতিটি ম্যাচেই একই রীতি অনুসরণ করছেন।
আরেকটি প্রচলিত কুসংস্কার হলো প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের ছোট মূর্তি বা তাদের নাম লেখা কাগজ ফ্রিজারে রেখে দেওয়া, এতে প্রতিপক্ষের দুর্ভাগ্য নেমে আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উপস্থিত না থাকার প্রবণতাও দীর্ঘদিনের। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম উদ্বোধনী ম্যাচের আগে জাতীয় দলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপরই আর্জেন্টিনা অপ্রত্যাশিতভাবে ক্যামেরুনের কাছে হেরে যায়।
এরপর মেনেমকে অনেকেই ‘মুফা’, অর্থাৎ অশুভ বা অপয়া বলে আখ্যা দেন। সেই ঘটনার পর থেকে দায়িত্বে থাকা কোনো আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টকে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ ম্যাচে সরাসরি উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
তথ্যসূত্র: ইসপিএন