২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজতেই শিরোপা উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন। তবে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের গ্যালারি থেকে তাকে লক্ষ্য করে ওঠে তীব্র দুয়োধ্বনি। এরপর ট্রফি মঞ্চেও একের পর এক বিব্রতকর মুহূর্তের জন্ম দেন তিনি।
স্পেন ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পর ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো পদক ও ট্রফি তুলে দিতে মাঠে নামেন। ট্রাম্প মাঠে প্রবেশ করতেই গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি শোনা যায়। পদক বিতরণের সময় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও ট্রফি প্রদানের সময় আবারও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়।
ট্রফি স্পেন অধিনায়ক রদ্রির হাতে তুলে দেওয়ার পরও ক্যামেরার ফ্রেম থেকে সরে যেতে দেরি করেন ট্রাম্প। এ সময় রদ্রি তাকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি, ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে চ্যাম্পিয়ন দলের উদযাপন বিলম্বিত হয়। একপর্যায়ে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো নিজেই এগিয়ে এসে ট্রাম্পকে মঞ্চের একপাশে নিয়ে যান।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল যে রদ্রি জায়গা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ট্রাম্পকে কনুই দিয়েও স্পর্শ করেন। এরপরও পুরোপুরি মঞ্চ ছাড়েননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট; স্পেনের খেলোয়াড়দের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপের এই ফাইনালকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনাও ছিল বেশ তীব্র। একদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে স্পেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গাজা সংঘাত বন্ধে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে দেওয়া লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিষয়ে ফিফা সভাপতিকে ফোন করার অভিযোগে আলোচনায় এসেছিলেন ট্রাম্প। বিশ্বকাপজুড়ে সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় ফাইনালের ট্রফি মঞ্চেও তিনি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেন।