ফাইনালের পর মাঠে তখন দুই রকমের দৃশ্য। একদিকে স্পেনের খেলোয়াড়দের শিরোপা উদযাপন, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার শিবিরে হতাশার নীরবতা আর পারদেসের উগ্র আচরণ তো ছিলোই। সেই মুহূর্তে সবার চোখ আটকে যায় এক দৃশ্যে, মাঠের ওপর চুপচাপ বসে থাকা লিওনেল মেসি আর তার দিকে এগিয়ে যাওয়া লামিন ইয়ামাল।
চেহারায় স্পষ্ট হতাশার ছাপ। বিশ্বকাপ ধরে রাখতে না পারার কষ্টে নীরব মেসিকে দেখে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে না গিয়ে এগিয়ে যান স্পেনের তরুণ তারকা। ইয়ামালকে কাছে আসতে দেখে মেসি তার দিকে হাত বাড়িয়ে দেন। এরপর ইয়ামাল তাকে দাঁড় করিয়ে দুজন একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। সেই মুহূর্তে ইয়ামাল মেসির পিঠে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। মেসিও তরুণ প্রতিপক্ষকে কিছু কথা বলেন, যদিও তখন সেই কথোপকথন স্পষ্ট ছিল না। পরে সেই মুহূর্তের অজানা কথাই প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল।
স্পেনের বিশ্বজয়ী এই তরুণ তারকা বলেন, ‘ইতিহাসের সেরা এবং এমন একজন আমি সবসময় যার প্রশংসা করি। ম্যাচ শেষে আমি তাকে আমার শ্রদ্ধা জানালাম।’
মেসির সঙ্গে সেই কথোপকথনের কথা বলতে গিয়ে ইয়ামাল আরও বলেন, ‘তিনি আমাকে নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে বললেন এবং বললেন, ভবিষ্যৎ আমাদের প্রজন্মের হাতে। ওই কথাগুলো আমার কাছে গলায় ঝুলানো স্বর্ণপদকের মতো মূল্যবান।’
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন ইয়ামাল। আর তার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমন একজন ফুটবলার, যাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম বড় অধ্যায়।
শিরোপা হারানোর কষ্টের মাঝেও মেসির এই আচরণ যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠ পর্যন্তই, কিন্তু সম্মান ও ভালোবাসার জায়গায় তিনি এখনো সবার অনুপ্রেরণা।