ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের জন্য সময়টা ভালো যাচ্ছে না। পুরোনো ক্লাব সান্তোসে ফেরার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়াচ্ছেন তিনি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার আচরণ, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের পর সান্তোসের সঙ্গে তার চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।
ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমারের সাম্প্রতিক আচরণে দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত অনুশীলন ও দলীয় পরিবেশে তাকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ বছরের মে মাসে অনুশীলনের সময় রবিনহো জুনিয়রকে চড় মারার পর নেইমারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এরপর কোপা সুদামেরিকানা চলাকালীন আরেক বিতর্কে জড়ান এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। দল যখন ভেনেজুয়েলা সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন সাও পাওলোর একটি পোকার (জুয়া) টুর্নামেন্টে তাকে দেখা যায়। এ নিয়ে সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নেইমার। পরে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে গোল উদযাপনের সময় তার ভঙ্গিও নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।
গ্লোবোর দাবি, ফুটবলের প্রতিদিনের চাপ ও রুটিনে নিজেও ক্লান্ত নেইমার। এমনকি খেলা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও তার মাথায় এসেছে। তবে বাবা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির কারণে এখনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।
অন্যদিকে সান্তোসের দুর্বল অবকাঠামো, দলীয় মান এবং অবনমনের শঙ্কা নিয়েও অসন্তুষ্ট নেইমার ও তার পরিবার। ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ সহায়তা করলেও ভেতরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের অভিযোগ রয়েছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আর্থিক জটিলতাও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান্তোসের কাছে নেইমারের বকেয়া পাওনা ১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি। পাশাপাশি দলের অন্য খেলোয়াড়রাও কয়েক মাস ধরে ইমেজ স্বত্বের অর্থ (টাকা) পাননি।
সম্প্রতি শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে নেইমারের তর্ক ও অপমানজনক আচরণের খবর প্রকাশ্যে আসে। তবে নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।