৮৫ রানে অলআউট হয়েও চ্যাম্পিয়ন! ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়ল গায়ানা
ক্রিকেটে কখনো কখনো এমন কিছু ম্যাচ আসে, যেগুলো শুধু ফলাফল দিয়ে নয়, গল্প দিয়েই মনে থাকে। গ্লোবাল সুপার লিগের ফাইনালও ঠিক তেমনই এক অবিশ্বাস্য কাহিনি লিখে রাখল। মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হয়েও যে একটি দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, সেটিই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স।
ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে গায়ানা। ইনিংসের নবম ওভারের আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৯ রান! জনসন চার্লস, শিমরন হেটমায়ার, রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও মোহাম্মদ নবির মতো তারকারাও ব্যর্থ হন।
সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের পেসার পিটার সিডল তখন যেন একাই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিলেন। দুর্দান্ত লাইন-লেংথে ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। মনে হচ্ছিল, শিরোপা বুঝি একপাশে হেলে গেছে।
কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই আবার প্রমাণ করল গায়ানা। শেষদিকে লোয়ার অর্ডারের লড়াইয়ে স্কোর ৮৫ পর্যন্ত নিয়ে যায় তারা। ডোয়েন প্রিটোরিয়াস ১৭, ম্যাথিউ ফোর্ড ২৮ এবং ইমরান তাহির ১১ রান করে দলকে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেন।
৮৬ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল সান ফ্রান্সিসকো। অলিভার পিকের ৩১ রানে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল তারা। ৫০ রান পর্যন্ত এগিয়েও ছিল দলটি। কিন্তু এরপরই শুরু হয় অবিশ্বাস্য ধস।
৫৩ থেকে ৫৮, মাত্র ৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ইউনিকর্নস। বল হাতে মোহাম্মদ নবী ও ইমরান তাহিরের দুর্দান্ত স্পিনে ভেঙে পড়ে তাদের প্রতিরোধ। শেষ পর্যন্ত ৭৯ রানেই গুটিয়ে যায় সান ফ্রান্সিসকোর ইনিংস।
মজার বিষয়, শুরুতে গায়ানাকে ধ্বংস করা পিটার সিডল শেষ পর্যন্ত ব্যাট হাতে লড়াই করলেও তার ১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস শুধু হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
এই জয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়েও শিরোপা জেতার প্রথম নজির এটি। শুধু তাই নয়, ফাইনালে আগে ব্যাট করে সর্বনিম্ন রান করেও জয়ের রেকর্ড গড়েছে তারা।
ক্রিকেটের সেই চিরন্তন সত্যটাই আবার সামনে এলো; স্কোরবোর্ডে রান কম হলেও, লড়াইয়ের সাহস থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।