দুই মাস আগেও বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছিলেন সোমালিয়ার ৩৪ বছর বয়সী রেফারি ওমর আর্তান। যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় বিশ্বকাপে রেফারিং করার সুযোগ হারিয়েছিলেন তিনি। অথচ সেই হতাশা কাটিয়ে এবার ইউরোপে নতুন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে এই আফ্রিকান রেফারি।
অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ বিমানবন্দরে নামার পরই তার সঙ্গে সেলফি তুলতে ও হাত মেলাতে এগিয়ে আসেন অনেকে। কারণ, উয়েফা সুপার কাপে পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন আর্তান। ইতিহাসে প্রথম অ-ইউরোপীয় রেফারি হিসেবে এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন তিনি।
গত দেড় বছর যেন স্বপ্ন আর হতাশার দোলাচলেই কেটেছে আর্তানের। আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল পরিচালনা করা প্রথম সোমালি রেফারি, ২০২৫ সালের বর্ষসেরা আফ্রিকান রেফারি; এরপর বিশ্বকাপের মঞ্চে সুযোগ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারায় সেই স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।
তবু থেমে যাননি আর্তান। উয়েফার ওয়েবসাইটে নিজের কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সময়টা খুব কঠিন ছিল। অনেকে সহানুভূতি দেখিয়েছেন। কারণ, এতগুলো বছর পরিশ্রম করার পর যখন কিছু করার কথা, আর তখনই সেটা করতে না পারা, এটা সত্যিই যন্ত্রণাদায়ক। তবে বিশ্বজুড়ে যে সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই উঠে এসেছেন আর্তান। ছোট বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন, মায়ের কাছ থেকেও দূরে বড় হয়েছেন। খেলোয়াড় হতে না পারলেও রেফারি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পর ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে রেফারিং করা প্রথম সোমালি হন তিনি।
এবার ইউরোপের মঞ্চে নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা। তবে নিজের সাফল্যের পাশাপাশি তরুণদেরও স্বপ্ন দেখতে বলছেন আর্তান। তার ভাষায়, ‘আমি যদি পারি, যে কেউ পারবে। যা চান, তা-ই করতে পারেন। স্বপ্ন দেখা কখনো বন্ধ করবেন না। রেফারি হতে চাইলে সেটাই সবচেয়ে ভালো কাজ; কেউ বাধা দিলেও থেমে যাবেন না। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন, দক্ষতা শাণিত করুন।’