গলের দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কার হার প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৯০ রানে অলআউট হওয়ার পর ভারতের ইনিংস ঘোষিত হয়েছিল ৯ উইকেটে ৫০৩ রানে। ২১৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা লঙ্কানদের চতুর্থ দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে লিড ছিল মাত্র ২৬ রানের। সেখান থেকে ম্যাচের গল্পটাই বদলে দিলেন সোনাল দিনুশা।
শেষ দিনে লো-অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে একের পর এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত তার অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংসেই হার এড়াতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা। ফলে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ড্র মেনে মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে।
এই ম্যাচে সোনাল দিনুশার পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। প্রথম ইনিংসে শতক পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তৃতীয় লঙ্কান ব্যাটার হিসেবে চার ইনিংসের মধ্যে তিনটি সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন এই তরুণ।
শেষ দিনের শুরুতে শ্রীলঙ্কার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ম্যাচ বাঁচানো। সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে প্রথমে কেশারা নুয়ান্থাকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে গড়ে তোলেন ১১২ রানের জুটি। নুয়ান্থা ১৫০ বলে ৪৬ রান করে দলের প্রতিরোধকে শক্ত ভিত দেন।
এরপর প্রবাথ জয়সুরিয়া মাত্র ২ রান করে ফিরে গেলেও দিনুশার লড়াই থামেনি। নবম উইকেটে লাহিরু কুমারাকে নিয়ে আরও ৪৭ রান যোগ করেন তিনি। কুমারা মাত্র ১২ রান করলেও খেলেছেন ৯০ বল। ভারতের বোলারদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ম্যাচ বাঁচানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
নবম উইকেটের পতনের পরও হাল ছাড়েননি দিনুশা। শেষ উইকেটে আসিথা ফার্নান্দোকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের জয় আটকে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দিনুশা অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন এবং দুই দল ড্র মেনে নেয়।
তার ২৬৪ বলের দুর্দান্ত ইনিংসটি সাজানো ছিল আটটি চার ও দুটি ছয়ে। অসাধারণ ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
ভারতের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন মানব সুথার ও রবীন্দ্রো জাদেজা। আরও তিনজন ভারতীয় বোলার পেয়েছেন একটি করে উইকেট।