শেষ ২ বলে সমীকরণ কঠিন, দরকার ৭ রান। গ্যালারিতে নিস্তব্ধতা, ডাগআউটে বাড়তি চাপ। ফাহিম আশরাফের বলে খালেদ আহমেদ ব্যাট চালালেন সর্বোচ্চ শক্তিতে, তবে বড় শটের বদলে নিলেন ১ রান। তখনই দৃশ্যপট বদলে যায়। স্ট্রাইক আসে ক্রিস ওকসের হাতে। শেষ বল, একটাই সুযোগ—আর ইংলিশ অলরাউন্ডার সেই সুযোগটা লুফে নিলেন নিখুঁতভাবে। বিশাল এক ছক্কায় রংপুর রাইডার্সকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়ে সিলেট টাইটান্সকে এনে দিলেন নাটকীয় জয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে রানের পাহাড় না থাকলেও উত্তেজনার কোনো ঘাটতি ছিল না। লো স্কোরিং এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় স্নায়ুর লড়াইয়ে, যেখানে শেষ হাসিটা হেসেছে সিলেট। আর সেই হাসির নায়ক, দলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ক্রিস ওকস।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর রাইডার্স। মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই হারায় চার উইকেট। সেখান থেকে ইনিংস টানার চেষ্টা করেন খুশদীল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে কোনোভাবে ২০ ওভার পার করে ১১১ রান তোলে রংপুর। খুশদীলের ১৯ বলে ৩০ আর মাহমুদউল্লাহর ২৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংসই ছিল তাদের ভরসা।
সিলেটের বোলাররা ছিলেন দুর্দান্ত। খালেদ আহমেদ একাই গুঁড়িয়ে দেন রংপুরের মাঝের অংশ, তুলে নেন ৪ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন ওকস ও নাসুম আহমেদ, দুজনই শিকার করেন ২টি করে উইকেট।
সহজ মনে হওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই চাপে পড়ে সিলেট। রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তুলতে হিমশিম খায় তারা। তবে স্যাম বিলিংস ও মেহেদী হাসান মিরাজ ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়ে চাপ সামাল দেন। তাদের ৫০ রানের জুটিই ম্যাচে সিলেটকে ফেরায়।
শেষদিকে এসে অভিজ্ঞতা আর ঠাণ্ডা মাথার পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় পাশ করেন মঈন আলি ও ক্রিস ওকস। আর শেষ বলের ছক্কায় ওকস শুধু ম্যাচই জেতাননি, এলিমিনেটরকে বানিয়ে তুলেন বিপিএলের অন্যতম স্মরণীয় এক নাটকীয় মুহূর্ত।