নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্তুগালের সর্বশেষ ম্যাচে খেলতে পারেননি আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৪৩) ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১৬ নভেম্বর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দেয় পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল, যেখানে দাপুটে পারফরম্যান্স করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ-জোয়াও নেভেসরা। রোনালদো না থাকলেও বড় জয় তুলে নিয়ে দলটি আত্মবিশ্বাসী অবস্থানেই রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির লক্ষ্যে মার্চের ফিফা উইন্ডোতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। সেখানে সিআর সেভেনের অধিনায়ক হিসেবে ফেরার কথা রয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে দুটি ম্যাচের আগে এখনও যথেষ্ট সময় থাকায় স্কোয়াড ঘোষণায় কিছুটা দেরি হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন নিশ্চিত করেছে এবং সকলের অনুমেয় যে, আসন্ন দুটি ম্যাচে পর্তুগালের ২৬ সদস্যের দলে রোনালদোর হাতেই নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড থাকবে।
আগামী ২৯ মার্চ আজতেকা স্টেডিয়াম-এ মেক্সিকোর বিপক্ষে এবং ১ এপ্রিল আটলান্টায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে রবার্তো মার্টিনেজের দল। আসন্ন দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তার ভাষায়, ‘দলে প্রায় ৪০ জন ফুটবলার আছেন, যাদের প্রত্যেকেরই বিশ্বকাপের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মার্চের দুটি ম্যাচ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং চূড়ান্ত ২৬ জনের তালিকা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।’
২০২৫ সালে পেনাল্টি শ্যুটআউটে স্পেনকে হারিয়ে পর্তুগালের উয়েফা নেশনস কাপের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রোনালদো। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ষষ্ঠ আসর খেলতে নামবেন তিনি। ২০২৬ আসরে ‘কে’ গ্রুপে উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া ও ইন্টার-কনফেডারেশন প্লে-অফ ১-এর বিজয়ী দলের সঙ্গে পড়েছে পর্তুগাল। ১৭ জুন প্লে-অফ জয়ী দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে রোনালদো-ফার্নান্দেজ-সিলভারা। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৭ জুন তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া।
৪১ বছর বয়সী এই তারকা বর্তমানে ছুটছেন পেশাদার ক্যারিয়ারের ১০০০তম গোলের পথে। জাতীয় দল ও আল-নাসর–এর জার্সিতে সুযোগ পেলেই গোল করে চলেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা ৯৬২। জাদুকরি মাইলফলক থেকে মাত্র ৩৮ গোল দূরে আছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।