গ্রুপ পর্বে টানা চার জয়ে দাপট দেখানো ভারতকে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে যেন চেনাই গেল না। আহমেদাবাদে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার মেনে ৭৬ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে স্বাগতিকরা। এই হারে সেমিফাইনালের পথে বড় ধাক্কা খেল সূর্যকুমার যাদবের দল।
রোববার রাতে শুরুটা অবশ্য ভারতের পক্ষেই ছিল। জসপ্রীত বুমরাহর আগুনে বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ২০ রান তুলতেই হারায় তিন উইকেট। তবে সেখান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ডেভিড মিলার। ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮৮ রান।
রান তাড়া করতে শুরু থেকেই ভেঙে পড়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। ১০ ওভারে ৫ উইকেটে মাত্র ৫১ রান তুলতেই ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায়। ১৫তম ওভারে কেশভ মহারাজ টানা তিন উইকেট তুলে নিলে শেষ আশাটুকুও নিভে যায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর অবশেষে হার দেখল ভারত।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে নেট রানরেটে। ভারতের নেট রানরেট নেমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৩ দশমিক ৮০-তে। ফলে সুপার এইটের সমীকরণ এখন জটিল হয়ে উঠেছে।
পয়েন্ট সমান হলে আগে দেখা হবে জয়ের সংখ্যা। সেটিও সমান হলে বিবেচনায় আসবে নেট রানরেট। তাতেও সমাধান না হলে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল। এরপরও সমতা থাকলে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাংকিং অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভারতের সামনে এখন দুটি ম্যাচ। ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং ১ মার্চ কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে তারা। শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়ই এখন জরুরি। কারণ নেট রানরেটের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে ভারতকে। জিম্বাবুয়ে বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারে, তাহলে গ্রুপের সমীকরণ আরও নাটকীয় হয়ে উঠবে। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির চিত্র হবে এইডেন মার্করামের দল যদি বাকি দুটি ম্যাচ জিতে নেয়। তাতে পয়েন্টের জটিলতা কিছুটা কমতে পারে।
এক কথায়, সূর্যকুমার যাদবদের সামনে এখন স্পষ্ট সমীকরণ - বাকি দুই ম্যাচ জিততেই হবে, এবং তা হতে হবে বড় ব্যবধানে। নইলে সুপার এইটেই থেমে যেতে পারে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান।