ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের মধ্যে উত্তেজনা যখন সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন বিশ্বরাজনীতির অঙ্গনে একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে—চীন কি ইরানের পাশে দাঁড়াবে? আর দাঁড়ালে, সেই সহায়তার ধরনই বা কী হবে?
বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত সামরিক জোটের মতো চীন সরাসরি সেনা পাঠাবে বা যুদ্ধে জড়াবে, এমন সম্ভাবনা কম। তবে এটিকে নিষ্ক্রিয়তা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। একবিংশ শতাব্দীর পরাশক্তির প্রতিযোগিতা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বাইরে আরও বিস্তৃত ও কৌশলনির্ভর।
সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের ইরান-সমর্থন বহুমাত্রিক এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। সামরিক উপস্থিতির বদলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় অবস্থানই বেইজিংয়ের মূল ভরসা।
বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীন তার ভেটো ক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গত মাসে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত সুন লি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বলেন, ‘বলপ্রয়োগ কখনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও দুর্বোধ্য করে তোলে। যেকোনো সামরিক দুঃসাহস অঞ্চলকে অনিশ্চিত এক গহ্বরের দিকে ঠেলে দেবে।’
কূটনৈতিক বার্তায় স্পষ্ট—চীন সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নামবে না, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের পক্ষে অবস্থান জোরালো রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই এবং প্রভাবশালী হতে পারে।