ইরানে একটি গণঅভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। এই পরিকল্পনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের বিরোধী দল ও ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে তাদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে।
ইরাক-ইরান সীমান্ত জুড়ে, বিশেষ করে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কয়েক হাজার যোদ্ধা মোতায়েন রয়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ওই গোষ্ঠীগুলোর কয়েকটি প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে আসন্ন অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ইরানের সামরিক বাহিনীকে পক্ষত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জানিয়েছে, ড্রোন ব্যবহার করে তারা কুর্দি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হেনেছে।
ঊর্ধ্বতন এক ইরানি কুর্দি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তানের (কেডিপিআই) প্রেসিডেন্ট মোস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য, কেডিপিআই অতীতে বিভিন্ন সময়ে আইআরজিসির হামলার শিকার হয়।
ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পশ্চিম ইরানে একটি স্থল অভিযানে ইরানি কুর্দি বাহিনী অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিযান নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সামনে বড় সুযোগ এসেছে।’
মার্কিন দুজন কর্মকর্তা ও এক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের এক প্রতিবেদনে প্রথম জানায়, ইরাকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও গত রোববার কথা বলেছেন ট্রাম্প। ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং এই মিশন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিরা একসঙ্গে কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূল পরিকল্পনা হলো—কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যস্ত রাখবে এবং এক জায়গায় আটকে রাখবে। এর ফলে ইরানের বড় শহরগুলোতে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ আবার কোনো হত্যাযজ্ঞের শিকার না হয়েই রাজপথে নেমে আসার সুযোগ পাবে; যেমনটি গত জানুয়ারির অস্থিরতার সময় ঘটেছিল।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কুর্দিরা ওই অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের দুর্বল করে দিতে সাহায্য করতে পারে।
ইরান ঘিরে এ পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সিআইএ।