চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে চালানো পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণ দেখিয়ে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক ভিডিওবার্তায় এ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ)। একইসঙ্গে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমের সব ধর্মীয় স্থাপনা। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ ছাড়াও ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোনো ধর্মাবলম্বী উপাসক বা দর্শনার্থীকে আগামীকাল এসব এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে দখলকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি শাসক সংস্থার প্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া অন্য সবার জন্য ওল্ড সিটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছে।
পবিত্র এই স্থাপনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শেখ ইকরিমা সাবরি। তিনি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
চলতি রমজানে প্রথমবারের মতো নেওয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত। এর আগে, গত দুই জুমায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির অংশগ্রহণে নামাজ অনুষ্ঠিত হয় আল আকসা প্রাঙ্গণে। এবারের রমজান মাসে পশ্চিম তীর থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধের দোহাই দিচ্ছে, তবে রমজান মাসের শুরু থেকেই আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছিল তারা। এই যুদ্ধের ফলে ইতিমধ্যে দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের পর জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ