মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সব জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে, যা তেলের দামকে প্রতি ব্যারেলে ১৫০ ডলারে নিয়ে যেতে পারে।
কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি শুক্রবার (৬ মার্চ) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮৯ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
মন্ত্রীর পাশাপাশি জ্বালানি বিশ্লেষকরাও সতর্ক করে বলেছেন, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশগুলোর তেলের মজুত রাখার ট্যাংকগুলো দ্রুত ভরে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে তেল রাখার জায়গা না থাকায় যেকোনো সময় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শুক্রবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি বলেন, যদি ট্যাঙ্কার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে না পারে, তাহলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম ১৫০ ডলার স্পর্শ করতে পারে।
গত সোমবার রাস লাফানে কাতারের একটি স্থাপনায় ইরানি হামলার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
আল-কাবি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, যুদ্ধ যদি এখনই শেষ হয়ে যায়, তাহলেও কাতারের স্বাভাবিক এলএনজি কার্যক্রমে ফিরে আসতে ‘কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস’ সময় লাগবে।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের মতে, কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম; যারা বিশ্বব্যাপী মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে।