যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে; যা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সতর্কসংকেত।
ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের নতুন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন অর্থনীতিবিদেরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, গত মাসে অন্তত ৫০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে নতুন কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো ৯২ হাজার চাকরি কমে গেছে।
বছরের শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল। জানুয়ারিতে ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন পদ তৈরি হয়েছিল, যা প্রায় পুরো ২০২৫ সালের মোট কর্মসংস্থানের সমান।
২০২৫ সাল ছিল করোনা মহামারি-পরবর্তী সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্বল বছর।
মূলত স্বাস্থ্যসেবা খাতে ধর্মঘট ও বিভিন্ন শিল্পখাতে লোকসানের জেরেই ফেব্রুয়ারিতে এই বিপর্যয়। এর ফলে মহামারি-পরবর্তী সময়ে এক মাসে এত বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান কমল।
এমনকি গত ডিসেম্বরের কর্মসংস্থানের তথ্যও সংশোধন করা হয়েছে, যা দেখাচ্ছে ওই মাসে ১৭ হাজার পদ বিলুপ্ত হয়েছিল।
ম্যানপাওয়ারগ্রুপের উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট গের ডয়েল বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি ছোট মাস হওয়ায় সাধারণত পরিসংখ্যান কিছুটা কম আসে। কিন্তু আজকের প্রতিবেদন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি নিচে। এটি ইঙ্গিত দেয়, মাসের শুরু থেকেই নিয়োগকর্তারা কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সর্তক বা সংকুচিত ছিলেন।’
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, বাণিজ্য নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অভিবাসী কর্মীদের সহজলভ্যতা সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা ভূ-রাজনৈতিক কারণে নিয়োগকর্তারা কর্মী নিয়োগে উৎসাহ হারিয়েছেন। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারির তীব্র শীতকালীন ঝড়ও কর্মসংস্থান তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।
ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর নতুন কর ঘোষণা করেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট বিশ্বজুড়ে পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এই পাল্টাপাল্টি পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের এই সপ্তাহে প্রকাশিত বেইজ বুকেও নিয়োগকর্তাদের অনাগ্রহ ফুটে উঠেছে।
সেখানে জানানো হয়, বর্তমানে পর্যাপ্ত কর্মী থাকলেও নতুন নিয়োগ প্রায় বন্ধ; যার অন্যতম কারণ আকাশছোঁয়া দামের কারণে ভোক্তাদের চাহিদায় ভাটা পড়া।
স্বাস্থ্যসেবা খাত, যা এতদিন শ্রমবাজারকে চাঙ্গা রেখেছিল, ফেব্রুয়ারিতে সেখানে ২৮ হাজার পদ কমেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের বড় ধর্মঘটগুলো এর প্রধান কারণ।
প্রযুক্তি ও সংবাদমাধ্যমসহ তথ্য খাতে ১১ হাজার পদ বিলুপ্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারে কর্মসংস্থান কমেছে ১০ হাজার। এ ছাড়া পরিবহন, নির্মাণ, পর্যটন, পেশাদার সেবা ও উৎপাদন খাতেও কর্মসংস্থান কমেছে।
তবে এর মধ্যেও ইতিবাচক দিক হলো—ছাঁটাইয়ের হার এখনো কম।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের (৫ মার্চ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদনকারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।