কাতারে নতুন এক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত হওয়ার মিনিটখানেক আগে দেওয়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভাষণ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান কর্মসূচির প্রধান আলি ভায়েজ। ওই ভাষণে পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার জন্য ক্ষমা চান।
ভায়েজ আল জাজিরাকে বলেন, ‘পেজেশকিয়ান, যিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল প্রেসিডেন্ট, তিনি স্পষ্টতই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি নষ্ট করার বিষয়ে উদ্বিগ্ন।
‘কিন্তু বর্তমানে যে নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা মূলত বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি লারিজানি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতো ব্যক্তিদের কথায় হচ্ছে। লারিজানি এবং গালিবাফ—উভয়েই বিপ্লবী গার্ডের প্রবীণ সদস্য এবং সাবেক কমান্ডার।’
‘তাই আমার কাছে মনে হচ্ছে, ইরান সরকার প্রতিবেশীদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার এবং তাদের সম্ভাব্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক পক্ষে যোগ দিতে বাধ্য করার পরিণতি নিয়ে চিন্তিত। অন্যদিকে বিপ্লবী গার্ড এই আক্রমণাত্মক নীতি চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর,’ যোগ করেন তিনি।
তবে একে গভীর কোনো ভাঙন হিসেবে না দেখে ভায়েজ বলেন, এই ভিন্ন বার্তাকে বরং এমনভাবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো কোনো সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে ঐক্য কিছুটা কমে যাওয়ার প্রতিফলন এটি।
এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইরান এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে। তারা ভালো করেই জানে, সামরিকভাবে শক্তিশালী দুই শত্রুর (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোকে চাপে রাখা এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানোই হলো তাদের প্রধান হাতিয়ার। আর এই মোক্ষম সুযোগটি তারা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চায় না।
ভায়েজ বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে একেক পক্ষ হয়তো একেক রকম কথা বলছে, যাতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি নষ্ট না হয়। এটি তাদের একটি কৌশলও হতে পারে। তবে দিনশেষে সরকারে যেই থাকুক, তারা সবাই একই নৌকার যাত্রী। যদি এই পুরো শাসনব্যবস্থা বা রাষ্ট্র বিপদে পড়ে, তাহলে তারা সবাই একসঙ্গে ডুববে। এই কারণে তাদের ভেতরের এই মতপার্থক্যকে আমি খুব বড় কোনো ফাটল বলে মনে করি না।’