র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে তার নিজ নির্বাচনী এলাকাতে পরাজিত করেছেন। এএফপির বরাতে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী শনিবার (৭ মার্চ) এ ফলাফল পাওয়া যায়।
৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহের এই জয় মেয়র থেকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার পথকে সাম্প্রতিক নেপালি রাজনীতির অন্যতম নাটকীয় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনটি আসে ছয় মাস আগে ঘটে যাওয়া সহিংস বিক্ষোভের পর, যা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের যুবনেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল অল্প সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ থেকে। পরে তা দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনীতিসহ বিস্তৃত অসন্তোষের প্রতিফলনে রূপ নেয়।
সারা দেশে বালেন্দ্র শাহের মধ্যপন্থী দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলে দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি অনেক জায়গায় এগিয়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে।’
পূর্বাঞ্চলীয় ঝাপা জেলায় নিজের আসনে শাহ প্রায় ৫৯ হাজার ৫০০ ভোট পেয়েছেন। সেখানে ওলি পেয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার ৩৫০ ভোট। ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষ হওয়ায় বালেন্দ্র শাহের জয় নিশ্চিত হয়েছে বলে এএফপির হিসাব বলছে।
ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে বিপুল জনতা জড়ো হয়ে শাহের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক চন্দ্র দেব ভট্ট বলেন, ‘এটি একধরনের ভূমিধস জয় হতে যাচ্ছে। এটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘদিনের হতাশার প্রতিফলন। মানুষ বুঝতে পারে নতুনদের শক্তিশালী এজেন্ডা নাও থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিনের দুর্বল শাসনের জন্য পুরোনো দলগুলোকে শাস্তি দিতেই এই ফল।’
শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘোষিত ৫৯টি আসনের মধ্যে বালেন্দ্র শাহের দল পেয়েছে ৪৮টি। নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে সাতটি এবং ওলির মার্ক্সবাদী দল পেয়েছে মাত্র দুটি আসন।
সাবেক মাওবাদী গেরিলা নেতা পুষ্প কমল দাহালের দল একটি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে প্রত্যক্ষ ভোটের বাকি ১০৬টি আসনের মধ্যে ৭১টিতে শাহের দল এগিয়ে রয়েছে।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভোটেও তাদের দল অর্ধেকের বেশি ভোট পেয়েছে, যার মাধ্যমে আরও ১১০টি আসন নির্ধারিত হবে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রত্যক্ষ ভোটের ফল সোমবারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে আনুপাতিক ভোট গণনায় অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
শাহের সমর্থকেরা ইতোমধ্যে কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে উদযাপন শুরু করেছেন। তবে দলের উপ-সভাপতি ডিপি আরিয়াল সমর্থকদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘উদযাপনের দিন অবশ্যই আসবে।’
বালেন নামে পরিচিত শাহ ২০২২ সালে বিপুল জনপ্রিয়তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তিশালী উপস্থিতির মাধ্যমে কাঠমান্ডু শহরের প্রথম স্বতন্ত্র মেয়র নির্বাচিত হন।
এদিকে গত বছরের সহিংসতার সময় ঝাপায় ওলির বাড়িসহ শত শত ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই ধ্বংসস্তূপ এখনও সেই সহিংসতার স্মৃতি বহন করছে।
৭৪ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা ধর্মকলা গৌতম বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু খুব কমই পূরণ করে। তবু এবারও কিছু আশা রাখছি।’