ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ইতালি অংশ নিচ্ছে না এবং যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছাও নেই বলে জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। বুধবার দেশটির সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেলোনি চলমান সংঘাতকে ‘সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম জটিল সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি অভিযান যেখানে ইতালি অংশ নেয়নি এবং অংশ নেওয়ারও কোনো পরিকল্পনা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে নেই এবং যুদ্ধে প্রবেশ করতেও চাই না।’
মেলোনি আরও বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হয়েছে। তার মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট সংকট এবং একটি যৌথ বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভাঙনের ইঙ্গিত বহন করছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইউরোপের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তার ভাষায়, ‘একটি আয়াতুল্লাহ শাসিত রাষ্ট্রের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা আমরা মেনে নিতে পারি না। এর সঙ্গে এমন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যুক্ত হলে তা শিগগিরই ইতালি এবং বিশেষ করে ইউরোপে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে।’
এদিকে ইরানে বেসামরিক নাগরিকদের নিহত হওয়ার ঘটনাতেও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মেলোনি। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি স্কুলে হামলায় হতাহতের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মেয়েশিশুদের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ইতালি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তবে তার মতে, ইরান হামলা অব্যাহত রাখলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া ‘অসম্ভব’ হয়ে পড়বে।
মেলোনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংকটের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি নিয়মিত সমন্বয় করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ইতালির নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতালি উপসাগরীয় দেশগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করছে। সেখানে প্রায় দুই হাজার ইতালীয় সেনা এবং কয়েক হাজার ইতালীয় নাগরিক অবস্থান করছেন।
এ ছাড়া ইরান থেকে নিক্ষেপ করা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপীয় অংশীদার দেশকে সহায়তা করতে ইতালি সাইপ্রাসে একটি নৌ ইউনিটও পাঠিয়েছে বলে জানান মেলোনি। তিনি এটিকে ‘ইউরোপীয় সংহতি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।